US highway crash: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের হাইওয়েতে মর্মান্তিক ট্রাক দুর্ঘটনায় সদ্য বিবাহিত মার্কিন দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ৩২ বছর বয়সি ভারতীয় নাগরিক রাজিন্দর কুমারকে বিচারের মুখোমুখি করতে ওরেগন স্টেট পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)।

রাজিন্দর কুমারকে ডেশুটস কাউন্টি জেলে স্থানান্তরের পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, স্টেট কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রত্যর্পণ বা দেশ থেকে বহিষ্কারের (Deportation) প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত থাকবে। স্থানীয় সময় রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে আইসিই জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একটি ট্রাক্টর-ট্রেলারের সঙ্গে হওয়া প্রাণঘাতী পথ দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ওরেগনের ডেশুটস কাউন্টিতে রাজিন্দর কুমারের বিরুদ্ধে দুটি 'ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার' (অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড) এবং বেপরোয়াভাবে প্রাণহানির ঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন (Indictment) করা হয়েছে।
এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, 'দুই মার্কিন নবদম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত থেকে আসা অপরাধমূলক অবৈধ অভিবাসী রাজিন্দর কুমারকে ওরেগন স্টেট হেফাজতে হস্তান্তর করেছে আইসিই। ২০২৫ সালের নভেম্বরের এক প্রাণঘাতী ট্রাক্টর-ট্রেলার দুর্ঘটনার জেরে ডেশুটস কাউন্টিতে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রির অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।' অভিবাসন সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে গ্রেফতার হওয়ার সময় ডেশুটস কাউন্টি জেলের কাছে একটি 'ইমিগ্রেশন ডিটেইনার' (আটকের আবেদন) জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আইসিই-এর সেই আবেদন অগ্রাহ্য করেই ডেশুটস কাউন্টি জেল কর্তৃপক্ষ কুমারকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়েছিল।
পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুর দিকে আইসিই আধিকারিকরা পলাতক কুমারকে পুনরায় খুঁজে বের করে গ্রেফতার করেন। সংস্থাটির বক্তব্য, 'স্টেট কোর্টে ফৌজদারি কার্যধারা শেষ হওয়ার পরই ফেডারেল আইন অনুযায়ী কুমারের অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' আইসিই-এর সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটির সিয়াটল ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হুলিও এস হার্নান্দেজ বলেন, 'দুটি আমেরিকান তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, এবং তাঁদের পরিবার বিচার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তাঁকে স্টেট হেফাজতে ফিরিয়ে দিয়েছে আইসিই।' তিনি আরও বলেন, 'এই যৌথ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে সহায়তা করবে এবং নিশ্চিত করবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেন কোনওভাবেই আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়।'
{{/usCountry}}পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুর দিকে আইসিই আধিকারিকরা পলাতক কুমারকে পুনরায় খুঁজে বের করে গ্রেফতার করেন। সংস্থাটির বক্তব্য, 'স্টেট কোর্টে ফৌজদারি কার্যধারা শেষ হওয়ার পরই ফেডারেল আইন অনুযায়ী কুমারের অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' আইসিই-এর সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটির সিয়াটল ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হুলিও এস হার্নান্দেজ বলেন, 'দুটি আমেরিকান তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, এবং তাঁদের পরিবার বিচার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তাঁকে স্টেট হেফাজতে ফিরিয়ে দিয়েছে আইসিই।' তিনি আরও বলেন, 'এই যৌথ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে সহায়তা করবে এবং নিশ্চিত করবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেন কোনওভাবেই আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়।'
{{/usCountry}}আইসিই-এর নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অ্যারিজোনার লুকভিলের কাছ থেকে মার্কিন সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (US Border Patrol) কুমারকে প্রথম আটক করেছিল। এর পরই তাঁকে দেশ থেকে অপসারণ বা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার (Removal proceedings) আওতায় আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে আইসিই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনও অভিবাসন আবেদন বিচারাধীন থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশে বসবাসের কোনও আইনি বৈধতা বা স্ট্যাটাস পেয়ে গেছেন।' আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারী পণ্যবাহী বাণিজ্যিক যানবাহন (Heavy Goods Vehicles) চালানোর সময় ভারতীয় নাগরিকদের জড়িত থাকার এমন একাধিক প্রাণঘাতী পথ দুর্ঘটনার নজির সামনে এসেছে; সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার রাজিন্দর কুমারের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো।