Supreme Court: বাংলাদেশে পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্র। এরপর তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টকে এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, কেন্দ্র তাঁদের ফিরিয়ে আনবে। তবে নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে।

বাংলাদেশি হিসাবে পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে যায় কেন্দ্র। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে সেই মামলাটি ওঠে। সেই শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, 'সরকার তাঁদের ফিরিয়ে আনবে। তবে নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে। সেই অনুযায়ী আমাদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' তিনি আরও জানান, মামলার বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে অন্য মামলার জন্য এটিকে নজির হিসেবে গণ্য না করার শর্তে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে আট থেকে দশ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানি জুলাই মাসে নির্ধারণ করে সুপ্রিম কোর্ট।
এই মামলার সূত্রপাত কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়, যেখানে সোনালি খাতুন এবং আরও কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। উচ্চ আদালত সেই পদক্ষেপকে 'বেআইনি' বলে মন্তব্য করেছিল। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মানবিক কারণে সোনালি খাতুন এবং তাঁর আট বছরের শিশুকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিশুটির দেখভালের নির্দেশ দেয় এবং বীরভূমের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে অন্তঃসত্ত্বা সোনালির চিকিৎসা ও প্রসবের সমস্ত ব্যবস্থা বিনামূল্যে করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২৪ এপ্রিল, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে শেষবারের মতো অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দিয়েছিল। আদালত কেন্দ্রের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারের অবস্থান জেনে তা আদালতকে জানাতে। সোনালির বাবা ভদু শেখের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সঞ্জয় হেগড়ে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে আদালতকে স্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না, যা 'অত্যন্ত অন্যায্য।'
মামলাকারীদের অভিযোগ, দিল্লির রোহিণী এলাকার সেক্টর ২৬-এ দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন কয়েকটি পরিবার। গত বছরের ১৮ জুন তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়। অভিযোগ, এরপর ২৭ জুন তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছিল, অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এই প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং নির্ধারিত নিয়ম পুরোপুরি মানা হয়নি। আদালতের মতে, এই ধরনের অতিরিক্ত তৎপরতা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে এবং বিচার ব্যবস্থার পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে।
{{/usCountry}}মামলাকারীদের অভিযোগ, দিল্লির রোহিণী এলাকার সেক্টর ২৬-এ দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন কয়েকটি পরিবার। গত বছরের ১৮ জুন তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়। অভিযোগ, এরপর ২৭ জুন তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছিল, অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এই প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং নির্ধারিত নিয়ম পুরোপুরি মানা হয়নি। আদালতের মতে, এই ধরনের অতিরিক্ত তৎপরতা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে এবং বিচার ব্যবস্থার পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে।
{{/usCountry}}