মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) হঠাৎ করেই হাজার হাজার অভিবাসীর ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের এই ছোট্ট ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় কার্যত ভেঙে পড়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে এই ঘটনায় ৯ জন প্রাণও হারিয়েছেন। জানা গিয়েছে সমুদ্র পার করে সিউটায় ঢোকার চেষ্টা করার সময় এই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি সীমান্তে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে সিউটার প্রশাসন। এদিকে

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে শুধুমাত্র অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার কোনও আইনি সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে মাদ্রিদ।
সিউটায় দায়িত্বে থাকা স্পেনের সিভিল গার্ড অফিসারদের সংগঠনের প্রধান রশিদ সবিহি বলেন, "পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল। ঠিক কতজন প্রবেশ করেছেন, তা বলা সম্ভব নয়। তবে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পার হয়েছেন। সীমান্ত ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।"
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলিও পরিস্থিতিকে "ব্যতিক্রমী" বলে বর্ণনা করেছে। উত্তর মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য আক্রাফ মাইমুনি জানান, তারাহাল (Tarajal) সীমান্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সুযোগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মরক্কোর বহু মানুষ তারাহাল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার ঘুরে হেঁটে স্পেনের সড়কে ঢুকে পড়ছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যুবক হলেও নারী, শিশু এবং পরিবার-সহ অনেক মানুষও ছিলেন। কেউ কেউ 'ভিভা এস্পানা' স্লোগানও দিতে শোনা যায়। কী কারণে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ একযোগে সীমান্ত অতিক্রম করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার আগের দিনও বহু অভিবাসী সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হওয়ার সময় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনার আগের দিনও বহু অভিবাসী সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হওয়ার সময় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
{{/usCountry}}স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। মরক্কোর পুলিশ সীমান্তে বহু মানুষকে আটকে দিচ্ছে এবং অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সিউটা সফরে যাচ্ছেন স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। অন্যদিকে, সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনও প্রয়োজন।
গত সপ্তাহেই সিউটায় ১,৫০০-র বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। প্রশাসনের দাবি, অভিবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলি ইতিমধ্যেই ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে এবং বহু মানুষকে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মে মাসেও একই ধরনের ঘটনায় মাত্র দু'দিনে আট হাজারের বেশি অভিবাসী মরক্কো থেকে সিউটায় ঢুকে পড়েছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছিল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের কাছে সিউটা দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে ইউরোপে অভিবাসন সংকটের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।