Threat Letter to Chirag Paswan: তফসিলি জাতি ও উপজাতির সংরক্ষণ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সরব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। সংরক্ষণ বন্ধ করা যাবে না বলে বারবার বক্তব্য রেখেছেন তিনি। এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আরেক সদস্য জিতন রাম মাঝির সঙ্গেও প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়েছেন চিরাগ। এর মধ্যেই এবার তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল।
চিরাগ পাসওয়ানের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রীর অফিসে একটি হুমকির চিঠি এসেছে। চিঠিতে দুটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ভয়ঙ্কর বার্তা। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘দ্রুত তোমাকে নৃশংস জঙ্গিরা খুন করবে।’ কে বা কারা এই চিঠি পাঠিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চিঠিটি পাওয়ার পর বিষয়টি হালকাভাবে নেয়নি চিরাগের দপ্তর। তাঁর অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সচিব দ্রুত চিঠিটির একটি কপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে বিহার সরকারের কাছেও চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। চিরাগের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবিও উঠেছে।
চিরাগ পাসওয়ান বর্তমানে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান। দেশের যে কোনও প্রান্তে তাঁর সঙ্গে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকেন। নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও নতুন হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দপ্তরের তরফে আরও কড়া নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।
চিরাগের ওপর হুমকির ঘটনা সামনে আসার সময়টা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত কয়েক দিন ধরে তিনি লাগাতার সংরক্ষণের পক্ষে কথা বলছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে কোটা বিরোধী আন্দোলন চললেও সংরক্ষণ ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
চিরাগের বক্তব্য, সংরক্ষণ কোনও দয়া নয়। এটি পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার। তাঁর মতে, কেউ চাইলেই এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। বর্তমান সময়েও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}চিরাগের বক্তব্য, সংরক্ষণ কোনও দয়া নয়। এটি পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার। তাঁর মতে, কেউ চাইলেই এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। বর্তমান সময়েও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}এই অবস্থান নিয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য জিতন রাম মাঝির সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সংরক্ষণ নিয়ে দু’জনের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়।
এরপরই চিরাগের দপ্তরে খুনের হুমকির চিঠি আসায় নানা প্রশ্ন উঠছে। সংরক্ষণ নিয়ে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে এই হুমকির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। চিঠির সত্যতা এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এখন মূল নজর তদন্তের দিকে। চিঠিতে দেওয়া ফোন নম্বরগুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি মন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হতে পারে।
একদিকে সংরক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে খুনের হুমকি। এই দুই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লি থেকে বিহার পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চিরাগ পাসওয়ানের দপ্তর ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।