তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনের আগে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন করে চর্চায় এলেন আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, মোদীর জন্মদিনের এক দিন আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পুরনো দু’টি ছবি শেয়ার করে আগাম শুভেচ্ছা জানান প্রবীণ অভিনেতা-রাজনীতিক।

শত্রুঘ্ন সিনহার পোস্টের ভাষাতেও ছিল আলাদা মাত্রা। তিনি লেখেন, পরের দিন শুভেচ্ছার বন্যায় তাঁর বার্তা হারিয়ে যেতে পারে, তাই এক দিন আগেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘বন্ধু’ এবং ‘সমাজের বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে তাঁর সুস্বাস্থ্য, শান্তি, সুখ এবং দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন। পোস্টের শেষে রসিকতার সুরে মোদীকে উদ্দেশ করে জানতে চান, এই আগাম শুভেচ্ছা জানানোর ভাবনাটি তাঁর কেমন লাগল।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর। ২০২৬ সালে তাঁর ৭৬তম জন্মদিন। শত্রুঘ্ন সিনহার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা শুরু হয়। কারণ, তিনি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ এবং দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার কথা এর আগেও স্পষ্ট করেছেন। চলতি বছরের জুনে দলীয় ভাঙন নিয়ে জল্পনার সময় শত্রুঘ্ন জানিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন।
তৃণমূলের রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটেই তাঁর মোদীকে শুভেচ্ছা জানানোকে অনেকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের অবস্থান নেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল। জুনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় এই সংখ্যা ২০ বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
{{/usCountry}}তৃণমূলের রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটেই তাঁর মোদীকে শুভেচ্ছা জানানোকে অনেকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের অবস্থান নেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল। জুনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় এই সংখ্যা ২০ বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে শত্রুঘ্ন সিনহা অবশ্য সেই শিবিরে যাননি। বরং তিনি প্রকাশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে এক দিকে দলের ভিতরে ভাঙন, অন্য দিকে মোদীর সঙ্গে তাঁর পুরনো ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক যোগাযোগ—এই দুই প্রেক্ষাপট পাশাপাশি উঠে এসেছে।
শত্রুঘ্ন সিনহার রাজনৈতিক পরিচয়ও দীর্ঘ দিনের। রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল বিজেপির সঙ্গে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১৯ সালে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। এরপর ২০২২ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে জয়ী হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি আসানসোল থেকে তৃণমূলের হয়ে জয় পান। বর্তমানে লোকসভায় তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসই।
এর আগে চলতি বছরের জুনেও মোদীকে তাঁর একটি শুভেচ্ছা বার্তা ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর ১২ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। সেই পোস্টের পর দলবদলের জল্পনা তৈরি হলেও শত্রুঘ্ন স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূলেই থাকছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন।
এবার জন্মদিনের এক দিন আগে মোদীকে দেওয়া তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছাবার্তা ফের সেই পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ সামনে আনল। তবে এই পোস্টকে ঘিরে নতুন কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা শত্রুঘ্ন সিনহা নিজে জানাননি। তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসাবেই রয়েছেন এবং আগাম শুভেচ্ছার পোস্টটি ব্যক্তিগত সৌজন্যের বার্তা হিসাবেই দিয়েছেন।