ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সহযোগিতা আরও মজবুত করতে একজোট হল ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। চার দেশের নৌবাহিনীর যৌথ সামরিক মহড়া ‘মালাবার ২০২৬’-এ যোগ দিতে জাপানের ইয়োকোসুকা নৌঘাঁটিতে পৌঁছেছে ভারতের যুদ্ধজাহাজ আইএনএস সহ্যাদ্রি। ৪ নভেম্বর সেখানে পৌঁছয় ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় নৌবহরের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবারের মহড়া। চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। দক্ষিণ চিন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই মহড়াকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ইয়োকোসুকা নৌঘাঁটিতে পৌঁছনোর পর আইএনএস সহ্যাদ্রিকে স্বাগত জানায় জাপানের মেরিটাইম সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্স। স্বাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়োকোসুকা জেলার কম্যান্ড্যান্ট ভাইস অ্যাডমিরাল ইয়াগি কোজি এবং জাপানে নিযুক্ত ভারতীয় মিশনের ডেপুটি চিফ আর মধুসূদন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক এবং সামুদ্রিক সহযোগিতার প্রতিফলন হিসাবেই এই আয়োজনকে দেখা হচ্ছে।
কী কী মহড়া হবে?
মালাবার ২০২৬-এর আয়োজন হচ্ছে দু'টি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে জাপানের নৌঘাঁটিতে চার দেশের নৌবাহিনীর আধিকারিকদের মধ্যে পেশাগত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ পরিকল্পনা তৈরি হবে। এর পর শুরু হবে সমুদ্রে মূল সামরিক মহড়া। সেখানে আইএনএস সহ্যাদ্রির সঙ্গে অংশ নেবে আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ইউনিট।
এই মহড়ায় সাবমেরিন-বিরোধী অভিযান, সমুদ্রপৃষ্ঠে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত ও মোকাবিলা এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক পরিস্থিতিতে যৌথ অভিযান চালানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি, আকাশ ও সমুদ্রপথে নজরদারি এবং চার দেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হবে। মূল লক্ষ্য, প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করার জন্য চার দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
কোন কোন যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে?
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপান এবারের মহড়ায় পাঠিয়েছে হেলিকপ্টারবাহী যুদ্ধজাহাজ জেএস ইসে, যুদ্ধজাহাজ জেএস মোগামি, একটি সাবমেরিন এবং পি-১ সামুদ্রিক নজরদারি বিমান। অস্ট্রেলিয়ার তরফে থাকছে যুদ্ধজাহাজ এইচএমএএস স্টুয়ার্ট এবং পি-৮এ পোসাইডন নজরদারি বিমান। আমেরিকাও পি-৮এ বিমান ও একটি উভচর সামরিক পরিবহণকারী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে আইএনএস সহ্যাদ্রি। ৫ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই মহড়া।
কেন গুরুত্বপূর্ণ মালাবার মহড়া?
{{/usCountry}}মার্কিন নৌবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপান এবারের মহড়ায় পাঠিয়েছে হেলিকপ্টারবাহী যুদ্ধজাহাজ জেএস ইসে, যুদ্ধজাহাজ জেএস মোগামি, একটি সাবমেরিন এবং পি-১ সামুদ্রিক নজরদারি বিমান। অস্ট্রেলিয়ার তরফে থাকছে যুদ্ধজাহাজ এইচএমএএস স্টুয়ার্ট এবং পি-৮এ পোসাইডন নজরদারি বিমান। আমেরিকাও পি-৮এ বিমান ও একটি উভচর সামরিক পরিবহণকারী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে আইএনএস সহ্যাদ্রি। ৫ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই মহড়া।
কেন গুরুত্বপূর্ণ মালাবার মহড়া?
{{/usCountry}}১৯৯২ সালে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নৌমহড়া হিসাবে মালাবারের সূচনা হয়েছিল। ২০০৭ সাল থেকে জাপান এই মহড়ায় অংশ নিতে শুরু করে। ২০১৫ সালে জাপান স্থায়ী সদস্য হয়। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়াও পূর্ণ অংশগ্রহণকারী হিসাবে যোগ দেয়। তার পর থেকে চার দেশের নৌবাহিনীকে নিয়ে এই মহড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চারটি দেশই কোয়াডের সদস্য। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের সামরিক ও নৌ-প্রভাব বৃদ্ধির দিকে নজর রেখে এই চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। তবে মালাবারকে সরাসরি কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসাবে দেখানো ঠিক নয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির ঘোষিত লক্ষ্য হল অবাধ সমুদ্রপথ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজায় রাখা।
ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে এই মহড়ার গুরুত্ব আরও বেশি। এর মাধ্যমে আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী নৌবাহিনীর সঙ্গে একযোগে কাজ করার অভিজ্ঞতা বাড়বে। পাশাপাশি, সাবমেরিন শনাক্ত করা, সমুদ্রপথে নজরদারি চালানো এবং যৌথ অভিযানের ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌসেনার দক্ষতাও বাড়বে।
ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক কৌশলের সঙ্গেও এই মহড়া যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত ‘মহাসাগর’ (মিউচুয়াল অ্যান্ড হলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ অ্যাক্রস রিজিয়নস) ভাবনার লক্ষ্যও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বাড়ানো। ফলে মালাবার ২০২৬ শুধু চার দেশের নিয়মিত সামরিক মহড়া নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চও।