Medical Shop strike: জামাকাপড়, খাবার বা ইলেকট্রনিক্সের মতো অনলাইনে এক ক্লিকেই বাড়ির দোরগোড়ায় চলে আসছে ওষুধ। করোনা মহামারির সময় ভারতে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ই-ফার্মাসি ব্যবস্থা। সেই সময় জরুরি পরিস্থিতিতে ওষুধ ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় ভরসা হয়ে উঠেছিল। করোনা পরিস্থিতি অনেক আগেই নিয়ন্ত্রণে এলেও ই-ফার্মাসি পরিষেবা এখনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা দূরে থাকেন বা শারীরিকভাবে চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। তবে এই সুবিধার বিপরীতে এবার সরব হয়েছে দেশের ওষুধের দোকানদারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (এআইওসিডি)। সেই সঙ্গে ই-ফার্মেসি বন্ধ করা-সহ একাধিক দাবিতে আগামী ২০ মে, বুধবার দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লক্ষ ৪০ হাজার ওষুধের দোকানদার এই সংগঠনের সদস্য। তাদের ডাকা ধর্মঘট সফল হলে ওই দিন দেশজুড়ে জীবনদায়ী ওষুধের পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন চিকিৎসা পরিষেবা কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধর্মঘট সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই বিকল্প ব্যবস্থা আগে থেকে নিশ্চিত করা জরুরি। সংগঠনের মূল লড়াই, অনলাইন ফার্মেসি বা ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, ই-ফার্মাসি দেশের ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ব্যবসার ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। এই ব্যবস্থার ফলে জনস্বার্থ ও সুরক্ষা দুই-ই বিঘ্নিত হচ্ছে।
এআইওসিডি-র পক্ষ থেকে মূলত তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে-
১. ই-ফার্মেসি বন্ধ করা: এআইওসিডি-র দাবি, অনলাইন ব্যবস্থায় ওষুধের সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে না। বাজারে অসংখ্য ভুয়ো প্রেসক্রিপশন ঘুরছে এবং ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এমনকি প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার মতো বিপজ্জনক কাজও চলছে অনলাইনের দাপটে।
২. ওষুধের দামে অনিশ্চয়তা: বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম কমাচ্ছে বা বাড়াচ্ছে। সংগঠনের দাবি, অসুস্থ প্রতিযোগিতার জেরে ওষুধের গুণমানও অনেক ক্ষেত্রে হ্রাস পাচ্ছে।
{{/usCountry}}২. ওষুধের দামে অনিশ্চয়তা: বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম কমাচ্ছে বা বাড়াচ্ছে। সংগঠনের দাবি, অসুস্থ প্রতিযোগিতার জেরে ওষুধের গুণমানও অনেক ক্ষেত্রে হ্রাস পাচ্ছে।
{{/usCountry}}৩. পুরনো নির্দেশনামার অপব্যবহার: ২০২০ সালের ২৬ মার্চ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার দোকানদারদের বাড়ি-বাড়ি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। সেই বিশেষ পরিস্থিতির নির্দেশিকাকে ঢাল করে ই-ফার্মেসিগুলি বর্তমানে তাদের ব্যবসা জাঁকিয়ে বসছে।
এআইওসিডি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংহল কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, 'চাল, ডাল বা আটার সঙ্গে ওষুধের তুলনা চলে না। ই-ফার্মেসির নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা বন্ধ করতে হবে।'
দ্বিমত সৃষ্টি ও জনভোগান্তির আশঙ্কা
ওষুধ ব্যবসায়ীদের এই পদক্ষেপ নিয়ে অবশ্য মহলের ভেতরেই দ্বিমত রয়েছে। ‘অল ইন্ডিয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ সরকার এই বনধের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই ধর্মঘট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে এবং বিষয়টি বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারাধীন। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওষুধ শিল্পের একাংশের দাবি, লড়াইটা আসলে ‘ডিসকাউন্ট’ বা ছাড় নিয়ে। ই-ফার্মেসিগুলো ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ায় ছোট ও মাঝারি দোকানদাররা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। তবে এআইওসিডি-র পাল্টা যুক্তি, এই অবিশ্বাস্য ছাড়ের লোভ দেখাতে গিয়েই বাজারে জাল ওষুধের রমরমা বাড়ছে এবং রোগীদের অজান্তেই শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা
ইতিমধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি জেলাশাসককে এই মর্মে স্মারকলিপি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের দিন জরুরি পরিষেবা কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি। ফলে ২০ মে অসুস্থ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের যে চরম বিপাকে পড়তে হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আগেভাগে তৈরি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।