আগরতলা থেকে আবারও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছাল বাংলাদেশে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রথা বজায় রেখে এ বছরও বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে পাঠানো হল ত্রিপুরার বিখ্যাত কুইন জাতের ৬০০টি উন্নতমানের আনারস। বুধবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আখাউড়া ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) দিয়ে এই আনারসের চালান পাঠানো হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ত্রিপুরাকে উপহার হিসেবে আম পাঠিয়েছিল। তারই পাল্টা সৌজন্য হিসেবে এই আনারস পাঠানো হয়েছে।

ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে পাঠানো এই চালানে মোট ১০০টি কার্টন ছিল। প্রতিটি কার্টনে ছয়টি করে আনারস রাখা হয়। আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চালানের যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক, ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা।
ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশকে আনারস পাঠানো হচ্ছে সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে। তাঁর কথায়, 'এটি বহু বছরের একটি ঐতিহ্য। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার আমাদের আম উপহার দিয়েছে। তারই প্রতিদান হিসেবে আমরা বাংলাদেশে আনারস পাঠাচ্ছি। দুই প্রতিবেশী অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।'
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে যে আনারস পাঠানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ রপ্তানিযোগ্য মানের। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের কাছে ত্রিপুরার বিখ্যাত আনারসকে আরও পরিচিত করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। অপূর্ব রায় বলেন, 'ত্রিপুরার এই আনারস আন্তর্জাতিক মানের। আমরা চাই, বাংলাদেশের মানুষও এই পণ্যের গুণমান সম্পর্কে জানুক। এটি ত্রিপুরার পক্ষ থেকে একটি আন্তরিক উপহার।'
ত্রিপুরার উদ্যানপালন দপ্তরের অধিকর্তা ফণীভূষণ জামাতিয়া জানান, এদিন মোট ৬০০টি কুইন জাতের আনারস পাঠানো হয়েছে। এই জাতের আনারস স্বাদ, গন্ধ এবং গুণমানের জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত। আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে এই চালান বাংলাদেশে পৌঁছবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তে প্রয়োজনীয় শুল্ক ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্যরেখায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের হাতে এই আনারসের চালান তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
{{/usCountry}}ত্রিপুরার উদ্যানপালন দপ্তরের অধিকর্তা ফণীভূষণ জামাতিয়া জানান, এদিন মোট ৬০০টি কুইন জাতের আনারস পাঠানো হয়েছে। এই জাতের আনারস স্বাদ, গন্ধ এবং গুণমানের জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত। আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে এই চালান বাংলাদেশে পৌঁছবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তে প্রয়োজনীয় শুল্ক ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্যরেখায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের হাতে এই আনারসের চালান তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
{{/usCountry}}ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে মৌসুমি ফল বিনিময়ের এই প্রথা কয়েক বছর ধরেই চলে আসছে। কখনও বাংলাদেশ থেকে আসে আম, আবার কখনও ত্রিপুরা থেকে যায় আনারস। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন প্রশাসনিক কর্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ফল বিনিময় শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রেও তা সহায়ক। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।