Tripura News: আসন্ন ভিলেজ কমিটি (ভিসি) নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিপ্রা মথা এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলিতে ব্যাপক সাংগঠনিক পুনর্গঠন করা হবে। এমনটাই ঘোষণা করলেন তিপ্রা মথার সুপ্রিমো তথা ত্রিপুরার ‘বুবাগ্রা’ প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মা।

সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় এমডিসি প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মা বলেন, তিপ্রা ইয়ুথ ফেডারেশন (টিওয়াইএফ), তিপ্রা উইমেন্স ফেডারেশন (টিডাব্লিউএফ), তিপ্রা ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ফেডারেশন (টিআইএসএফ), তিপ্রা কালচারাল ফোরাম (টিসিএফ) এবং তিপ্রা মথা-এই সমস্ত সংগঠনের কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুযোগসন্ধানী বা ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের জন্য নতুন সাংগঠনিক কাঠামোতে কোনও স্থান থাকবে না। তিনি আরও বলেন, যারা সৎ, নিবেদিতপ্রাণ এবং রাজ্য ও দেশের উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে দলের আদর্শ ও ভিশনের প্রতি আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তারাই এই পুনর্গঠনের মূল অংশ হবেন।
প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার কথায়, 'ভিসি নির্বাচনের পর সম্পূর্ণ টিওয়াইএফ, টিডব্লিউএফ, টিআইএসএফ, টিসিএফ এবং তিপ্রা মথা পার্টি পুনর্গঠন করা হবে।' তিনি সংগঠনের অভ্যন্তরে সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেন, দলের লক্ষ্যের প্রতি প্রকৃত অঙ্গীকার ছাড়া যারা ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে বলে মনে করা হবে, তাদের কোনও স্থান থাকবে না। তাঁর কথায়, 'যারা সৎ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের রাজ্য ও দেশের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, তারাই বুঝবেন আমি কী বলছি। সুবিধাবাদী লোকদের জন্য কোনও জায়গা থাকবে না।'
প্রায় এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) অঞ্চলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নির্বাচনকে উপজাতি এলাকার গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পর তিনি জানান, বহু বছরের সংগ্রামের ফলেই নির্বাচন আয়োজনের পথ খুলেছে। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি ভোট নয়, বরং উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার এবং স্থানীয় স্বশাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের বড় জয়। ত্রিপুরার মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৬৮ শতাংশ অংশ টিটিএএডিসির অধীনে। রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ উপজাতি জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসবাস করে। সাধারণ এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সমতুল্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভিলেজ কাউন্সিল স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন এবং জনসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০১৬ সালের পর আর কোনও নির্বাচন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের অভাব ছিল।
{{/usCountry}}প্রায় এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) অঞ্চলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নির্বাচনকে উপজাতি এলাকার গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পর তিনি জানান, বহু বছরের সংগ্রামের ফলেই নির্বাচন আয়োজনের পথ খুলেছে। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি ভোট নয়, বরং উপজাতি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার এবং স্থানীয় স্বশাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের বড় জয়। ত্রিপুরার মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৬৮ শতাংশ অংশ টিটিএএডিসির অধীনে। রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ উপজাতি জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসবাস করে। সাধারণ এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সমতুল্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভিলেজ কাউন্সিল স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন এবং জনসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০১৬ সালের পর আর কোনও নির্বাচন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের অভাব ছিল।
{{/usCountry}}মূলত ২০২১ সালেই এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে কোভিড পরিস্থিতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং মিজোরাম থেকে আগত রিয়াং শরণার্থীদের ভোটার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্বাচন না হওয়ায় বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। রাজনৈতিকভাবে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালের এডিসি নির্বাচনে সদ্য গঠিত তিপ্রা মথা ২৮টির মধ্যে ১৮টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসে এবং উপজাতি রাজনীতিতে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে। এবার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনেও দলটি নিজেদের সংগঠনগত শক্তি যাচাই করার সুযোগ পাবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা হবে, ১২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রচারপর্ব চলবে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য দিন ৩ অক্টোবর। ফলে দশ বছর পর উপজাতি এলাকার তৃণমূল প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেল।