ভারতের ভোট নিয়ে বলতে গিয়ে এবার ব্রাজিলের নির্বাচনকে ভারতের নির্বাচন বলে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়েছে রবিবার। সেই নির্বাচন নিয়েই নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করতে গিয়ে ভারতকে টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, একই দিনে ভারতে ১২ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলও প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। বাস্তবে ভারতে সেদিন কোনও নির্বাচনই হয়নি। তার উপর ভারতের রাষ্ট্রপতিকে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিতও করেন না। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
কী বলেছিলেন ট্রাম্প?
ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আজ ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় ১২ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ভোট শেষ হওয়ার পরেই একই দিনে ফলও প্রকাশিত হয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে দুটি বড় ভুল সামনে এসেছে।
প্রথমত, ৫ অক্টোবর ভারতে কোনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়নি। দ্বিতীয়ত, ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনভোটে হয় না। সংসদ ও রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ফলে ব্রাজিলের সরাসরি জনভোটের ব্যবস্থাকে ভারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প বলেই মনে করা হচ্ছে।
ব্রাজিলে ঠিক কী হয়েছে?
রবিবার ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়েছে। সেখানে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সেনেটর ফ্লাভিয়ো বলসোনারোর মধ্যে প্রথম দফায় কেউই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে।
প্রথম দফায় বলসোনারো ৫ কোটি ৬০ লক্ষের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন বলে ব্রাজিলের নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে এনডিটিভি। লুলা পেয়েছেন প্রায় ৫ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোট। ফলে এবার দুই নেতার মধ্যে সরাসরি লড়াই হবে। নতুন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে।
ভারতের ভোট নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ কেন?
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও একাধিক বার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবস্থা এবং ভোটার যাচাইয়ের প্রশংসা করেছিলেন। আমেরিকায় ভোট দেওয়ার আগে পরিচয়পত্র যাচাই আরও কড়া করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিজের দেশের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার অবশ্য সেই ভারত প্রসঙ্গই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলল। কারণ যে নির্বাচন নিয়ে তিনি প্রশংসা করতে চেয়েছিলেন, তার সঙ্গেই মিশে গেল সম্পূর্ণ অন্য দেশের ভোট।
ভুলের পর আমেরিকার ভোট নিয়েও তোপ
{{/usCountry}}ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও একাধিক বার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবস্থা এবং ভোটার যাচাইয়ের প্রশংসা করেছিলেন। আমেরিকায় ভোট দেওয়ার আগে পরিচয়পত্র যাচাই আরও কড়া করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিজের দেশের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার অবশ্য সেই ভারত প্রসঙ্গই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলল। কারণ যে নির্বাচন নিয়ে তিনি প্রশংসা করতে চেয়েছিলেন, তার সঙ্গেই মিশে গেল সম্পূর্ণ অন্য দেশের ভোট।
ভুলের পর আমেরিকার ভোট নিয়েও তোপ
{{/usCountry}}ভারত ও ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেলার পরও থামেননি ট্রাম্প। নিজের পোস্টেই তিনি আমেরিকার ভোট ব্যবস্থা নিয়ে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো জায়গায় ফল ঘোষণা হতে নাকি অনেক সময় লাগে, এমন দাবি করে মার্কিন ভোট ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন। ৩ নভেম্বর সেখানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সব ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। ৩৬টি রাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও হবে। এই ভোটেই ঠিক হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ দুই বছরে ট্রাম্পের পক্ষে থাকবে, নাকি বিরোধীদের হাতে যাবে।
রাজনৈতিক বার্তা দিতে গিয়ে বেফাঁস?
ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এবার ভারতের নাম করে ব্রাজিলের ভোটের কথা বলে ফেলার ঘটনায় তাঁর তথ্য যাচাইয়ের প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কী ভাবে হয়, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই ভুল তথ্য দেওয়ায় বিষয়টি আরও চর্চিত হচ্ছে।
এক দিকে ব্রাজিলে লুলা বনাম বলসোনারোর হাইভোল্টেজ লড়াই, অন্য দিকে আমেরিকায় ঘাড়ের উপর মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই ভারতের নাম টেনে ট্রাম্পের এই বেফাঁস মন্তব্য নতুন করে নজর কেড়েছে।