প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর। সেখানের প্রতিবাদীরা ইতিমধ্যেই ভারতের সহায়তা চেয়ে সুর চড়িয়েছে। এদিকে, এরই মাঝে পাকিস্তানের কোয়েট্টার প্রান্তরের হান্না উরাক নামের এলাকার কিল্লি বাবরিতে এক হামলা চালিয়েছে টিটিপি, বলে খবর। ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৯ জন আহত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, এই হামলা ঘিরে উঠছে এক অন্য প্রশ্নও। আর সেই প্রশ্ন পাকিস্তানের সেনাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে। এই হান্না উরাক এলাকার কিছু দূরেই রয়েছে পাকিস্তানের সেনার ক্যান্টমেন্ট। সেখানে রয়েছে পাক সেনার একাধিক ফ্রন্টিয়ার কর্পসের চেক পয়েন্ট, নজরদারি সম্পর্কিত ঘাঁটি।

জানা যাচ্ছে, যে এলাকায় ওই হামলা ঘটেছে, তার আশপাশের এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড়। আর সেই পাহাড় থেকে হামলাকারীরা নেমে এসেই এলাকায় গুলি চালাতে শুরু করে। রিপোর্ট বলছে, নিরাপত্তাবাহিনী আসার আগেই, গ্রামকে রক্ষা করতে স্থানীয় উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার যুবকরা বন্দুক হাতে তুলে হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই চালায়। দুই পক্ষের গুলির লড়াই চলে। তার জেরেই বেশ কয়েকজন স্থানীয়ের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এলাকার স্থানীয়দের টার্গেট করেই এই হামলা হয়েছে।
এদিকে, হামলার পর, নিরাপত্তারক্ষীরা এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয় হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি। হান্না উরাক সহ আশপাশের এলাকায়, বাড়তি ফোর্স লাগু হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত কিছু সময়ের মধ্যে পাকিস্তানে ক্রমাগত বালোচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাস বাড়তে থাকছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় সেদেশের সরকারি নানান প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করছে টিটিপি।
এদিকে, বিক্ষোভে উত্তাল পিওকে। পাকিস্তান সরকার সেখানে ইতিমধ্যে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সংগঠনের প্রায় ৬০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকেই সেখানে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলতে থাকা অশান্তির মধ্যে ভারতের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানালেন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতা সর্দার আমন খান। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।