Tukaram Mundhe: মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) ফের অ্যাকশনে তুকারাম মুন্ধে (Tukaram Mundhe)। খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার কৃষ্ণের দোরগোড়ায় পৌঁছল মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মুম্বইয়ের জুহুতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন (ISKCON)-এর তিনটি ফুড ইউনিটের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করল এফডিএ। সম্প্রতি এক অভিযানে এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে।
এফডিএ-র অভিযানে জুহুর ইসকন চত্বরে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাদ্য সুরক্ষার একাধিক গুরুতর ফাঁকফোকর ধরা পড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে কীটপতঙ্গের উপদ্রব, অপর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুত ও আলাদা করে রাখার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি, দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থা, খাবার ও জলের নিয়মিত পরীক্ষা না করা এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা ও খাদ্য সুরক্ষা প্রশিক্ষণের অভাব। মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) অফিসার তুকারাম মুন্ধের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে চলা এক বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে মুম্বইয়ের মোট ছয়টি, কোঙ্কণ বিভাগের তিনটি এবং পুণে বিভাগের ১১টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পুণেতে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার মধ্যে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চালানোর অভিযোগে একটি সংস্থাকে অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসকনের কোন কোন ইউনিটে পদক্ষেপ?
জুহুর হরে কৃষ্ণ ল্যান্ডে যে তিনটি ইউনিটের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেগুলি হলো—হরে কৃষ্ণ ল্যান্ডের মূল খাদ্য প্রস্তুতকারী ইউনিট, ইসকন জুহু ফুড সার্ভিসেস-রেস্তোরাঁ এবং বিখ্যাত ‘গোবিন্দ'স’ রেস্তোরাঁ। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। হরে কৃষ্ণ ল্যান্ডের প্রধান ইউনিটে দেখা গেছে—কাঁচামাল পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, অনুপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কীটপতঙ্গের উপদ্রব রয়েছে এবং নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত বেহাল। পাশাপাশি, জল পরীক্ষার নথি, কর্মচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণ এবং অভ্যন্তরীণ অডিট সংক্রান্ত কোনও রেকর্ডও দেখাতে পাননি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ‘গোবিন্দ'স’ রেস্তোরাঁর কোল্ড স্টোরেজে জমে থাকা জল, বন্ধ হয়ে যাওয়া নর্দমা, পেস্ট কন্ট্রোলের ঘাটতি এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখার মতো চরম অনিয়ম ধরা পড়েছে।
একই অভিযানে মালাড ওয়েস্টে অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জেপ্টো (Zepto)-র ডার্ক স্টোর পরিচালনাকারী 'ড্রোগেরিয়া সেলার্স প্রাইভেট লিমিটেড'-এর লাইসেন্সও বাতিল করেছে এফডিএ। আধিকারিকরা সেখানে প্যাকেটজাত ডিমের ক্রেটে এবং পানীয়ের টেবিলের ওপর জ্যান্ত আরশোলা ঘুরে বেড়াতে দেখেন। এ ছাড়া দুধ, পনির এবং দই যেখানে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার কথা, সেখানে সেগুলি রাখা ছিল ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এমনকী তাদের কোল্ড স্টোরেজের তাপমাত্রা ছিল ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বিক্রির জন্য নির্ধারিত তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সাজানো ছিল।
{{/usCountry}}একই অভিযানে মালাড ওয়েস্টে অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম জেপ্টো (Zepto)-র ডার্ক স্টোর পরিচালনাকারী 'ড্রোগেরিয়া সেলার্স প্রাইভেট লিমিটেড'-এর লাইসেন্সও বাতিল করেছে এফডিএ। আধিকারিকরা সেখানে প্যাকেটজাত ডিমের ক্রেটে এবং পানীয়ের টেবিলের ওপর জ্যান্ত আরশোলা ঘুরে বেড়াতে দেখেন। এ ছাড়া দুধ, পনির এবং দই যেখানে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার কথা, সেখানে সেগুলি রাখা ছিল ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এমনকী তাদের কোল্ড স্টোরেজের তাপমাত্রা ছিল ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বিক্রির জন্য নির্ধারিত তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সাজানো ছিল।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, দুধের প্যাকেটে ভুল লেবেলিং ও ভেজালের অভিযোগে খারঘরের 'মাতেশ্বরী মিল্ক'-এর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। সেখানে টোনড দুধকে গরুর দুধ এবং স্ট্যান্ডার্ডাইজড দুধকে মোষের দুধ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকী কোনও পাস্তুরাইজেশন প্ল্যান্ট ছাড়াই পাস্তুরিত দুধ বলে বাজারজাত করা হচ্ছিল। পাশাপাশি, কুরলায় রেলের সঙ্গে যুক্ত একটি আইআরসিটিসি (IRCTC) বেস কিচেনের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। সেখানেও আরশোলা, ঢাকাবিহীন খাবার এবং খোলা আবর্জনার পাশে রান্না করার মতো জঘন্য দৃশ্য ধরা পড়ে। এ ছাড়া আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে মানোন্নয়নের নোটিশ ধরিয়েছে এফডিএ।