সদ্য ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে কিছুদিন আগেই গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত তপ্ত ছিল। একের পর এক আরব দেশে মার্কিন ঘাঁটি তাক করে হামলা শানিয়েছিল ইরান। আরব বিশ্বের বহু দেশেই ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছিল। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিলাসী শহর দুবাইও। প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুবাই কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে। যে দেশে দুবাই অবস্থিত, সেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবার ব্রাহ্মোস, আকাশতিরের মতো অস্ত্র ভারতের কাছ থেকে কিনতে আগ্রহী।

অপারেশন সিঁদুর-এ গোটা বিশ্ব দেখেছে ভারতের অস্ত্রশক্তি! এবার ইরান যুদ্ধের পর, আরব বিশ্বের অন্য়তম দেশ, আরব আমিরশাহি, ‘ব্রাহ্মোস‘, ‘আকাশতীর‘ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সূত্র উল্লেখ করে ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে ‘আকাশতীর’ (Akashteer) রপ্তানির বিষয়টি,এটি ভারতের একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেম, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড’ (BEL) তৈরি করেছে। এই আলোচনা সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারতের একাধিক অস্ত্র প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
জানা যাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও নয়াদিল্লির মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা খুবই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তবে দিল্লি বা আরব আমিরশাহির তরফে এই বিষয়ে কোনও কথা বলা হয়নি। ইরান, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির মুখে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে। পাশাপাশি দেশটি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তাও জোরদার করতে চাইছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি দিয়ে তাদের জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। চলতি বছরের শুরুতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় চুক্তির পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩.৩ লক্ষ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।