মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের চাপে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)। দলের অন্দরে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা এবং একাধিক সাংসদের বিদ্রোহী অবস্থানের মধ্যে দলের সর্বোচ্চ পদ ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন উদ্ধব ঠাকরে। শুক্রবার শিবসেনার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে আবেগঘন ভাষণে তিনি বলেন, দলের কর্মীরা যদি মনে করেন যে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নন, তাহলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

শিবসেনা ভেঙে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বড় অংশ বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছে উদ্ধব শিবির। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দলের ছয়জন সাংসদ আলাদা ফ্রন্ট গঠনের পরিকল্পনা করছেন বলে খবর সামনে এসেছে। এমনকি তাঁরা শিন্ডের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতেই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন উদ্ধব।
দলের প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উদ্ধব বলেন, “যদি কর্মীরা মনে করেন আমি এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য নই, তাহলে আমি যে কোনও সাধারণ শিবসেনা কর্মীর হাতে এই পদ তুলে দিতে রাজি।” তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে নেতৃত্ব ছাড়ার কথা বললেও রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, “আমি হার মানব না। কিন্তু যেদিন আপনারা মনে করবেন আমি সঠিক ব্যক্তি নই, সেদিনই আমি সরে যাব।”
ভাষণে বিদ্রোহী সাংসদদেরও কড়া আক্রমণ করেন উদ্ধব। তিনি বলেন, ভোটাররা শিবসেনাকে সমর্থন করলেও নির্বাচিত সাংসদদের একাংশ দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এ জন্য তিনি জনতার কাছে ক্ষমাও চান। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের কিছু সাংসদ সেই বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেননি।”
{{/usCountry}}ভাষণে বিদ্রোহী সাংসদদেরও কড়া আক্রমণ করেন উদ্ধব। তিনি বলেন, ভোটাররা শিবসেনাকে সমর্থন করলেও নির্বাচিত সাংসদদের একাংশ দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এ জন্য তিনি জনতার কাছে ক্ষমাও চান। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের কিছু সাংসদ সেই বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেননি।”
{{/usCountry}}বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম অভিযোগ ছিল, উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায় না। এই অভিযোগের জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি আমি এতটাই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকি, তাহলে তাঁরা নির্বাচনে জিতলেন কীভাবে?”
একইসঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে শিবসেনা (ইউবিটি) মিশে যাওয়ার জল্পনাও উড়িয়ে দেন উদ্ধব। তিনি বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় বিজেপির সঙ্গে জোটে থেকেও শিবসেনা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছে। ফলে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং বিজেপির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস কখনও ‘মাতোশ্রী’-র অসম্মান করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধবের এই বক্তব্য একদিকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা, অন্যদিকে বিদ্রোহী নেতাদের প্রতি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র অভ্যন্তরীণ সংকট কতটা গভীর, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।