দেশের গরিব ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনায় বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। এবার থেকে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত উপভোক্তারা বছরে মাত্র চারটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে সরকারি ভর্তুকি পাবেন। এতদিন উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা বছরে সর্বাধিক ৯টি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার পাওয়ার সুযোগ পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব প্রবীণ মাল খানুজার বক্তব্য অনুযায়ী, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের গড় বার্ষিক গ্যাস ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অধিকাংশ উপভোক্তার বার্ষিক ব্যবহার বিবেচনা করে ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রতি সিলিন্ডারে সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকি দেয়, তা গ্রাহকদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে উজ্জ্বলা যোজনার সূচনা হয়েছিল। গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলাদের ধোঁয়ামুক্ত রান্নার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। শুরুতে প্রকল্পের উপভোক্তারা বছরে ১২টি ভর্তুকিযুক্ত ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার পেতেন। পরে সেই সংখ্যা কমিয়ে ৯ করা হয়। এবার তা আরও কমিয়ে বছরে মাত্র ৪টি সিলিন্ডারে সীমাবদ্ধ করা হল।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে কলকাতায় গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৬৮ টাকা। গত কয়েক মাসে এটি দ্বিতীয় দফার মূল্যবৃদ্ধি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারত এখনও তুলনামূলক কম দামে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা বর্তমানে ভর্তুকি-সহ ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৬৪২ টাকায় পাচ্ছেন। তবে ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা ৯ থেকে কমিয়ে ৪ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধির আবহে এই সিদ্ধান্ত গরিব পরিবারের রান্নাঘরের খরচ আরও বাড়িয়ে তুলবে।