মায়ানমারে গিয়ে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৭ বিদেশি। তাদের মধ্যে ৬ জনই ইউক্রেনিয়ান। এই আবহে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে 'ভুল' করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত?

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ বিদেশি বৈধ ভিসাতেই ভারতে এসেছিল। তবে বিনা অনুমতিতে তারা মিজোরামে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে গিয়েছিল এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছিল। সেখানে তারা সেই সব জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে একাধিক ড্রোন মিজোরামে আমদানি করেছিল এই বিদেশিরা। এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা।
আদালত এই বিদেশিদের ২৭ মার্চ পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। দিল্লির এক আদালতের রুদ্ধদ্বার কক্ষে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অতুল ত্যাগী, অমিত রোহিলা ও অন্যান্যরা এনআইএ-র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এই বিদেশিদের ১৫ দিনের জন্য রিমান্ডে চান তাঁরা। সরকার পক্ষের দাবি ছিল, কোন রুট দিয়ে তারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে গিয়েছি, তা খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া এই বিদেশিদের অন্য আর কোনও সহযোগী রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেও জেরা এবং তদন্ত প্রয়োজন। অপরদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী প্রমোদ কুমার দুবে ও আইনজীবী অতুল সেহগাল। তাঁরা এনআইএ-র দাখিল করা রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।