রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধাক্কা খেল ইউক্রেন। মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারশিল্ডের সংযোগে বিঘ্ন ঘটতেই একের পর এক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকাশ থেকে পড়তে শুরু করে। রুশ সামরিক ঘাঁটি, কম্যান্ড পোস্ট এবং জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র লক্ষ্য করে এগোচ্ছিল ড্রোনগুলি। কিন্তু আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় সেগুলির ভিডিও সংযোগ। এর জেরে এক মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ড্রোন হারিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনা। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি টাকা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, প্রায় তিন দিন বন্ধ রাখতে হয় ইউক্রেনের কয়েকটি সেনা ইউনিটের অধিকাংশ ড্রোন অভিযান। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
কীভাবে বিপর্যয় ঘটল?

স্টারশিল্ড হল ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিঙ্ক ব্যবস্থার সামরিক সংস্করণ। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর একাংশ এই পরিষেবা ব্যবহার করে ড্রোন পরিচালনা, যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ এবং নজরদারি চালায়। কিন্তু গত সপ্তাহে পরিষেবাটিতে বিধিনিষেধের জেরে ড্রোন পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেয়। ইউক্রেনীয় কম্যান্ডার ওলেহের দাবি, রুশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ড্রোনগুলির ভিডিও ফিড আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। স্যাটেলাইট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
প্রথম দিকে ঘণ্টায় মাত্র ৪০ মাইল গতিতে চলার সময়ও ড্রোনগুলির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় আধিকারিকেরা। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে চললে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দাবি, আগে স্টারশিল্ড ব্যবহার করে ঘণ্টায় ২৫০ মাইল গতিতেও ড্রোন চালানো সম্ভব হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি চিন্তা আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে। রাশিয়ার ড্রোন আটকাতে ইউক্রেন যে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে, সেগুলিকে লক্ষ্যবস্তুর চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে হয়। সংযোগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলে এই ড্রোনগুলির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ইউক্রেনীয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রি বিলেতস্কির বক্তব্য, এই সীমাবদ্ধতা দেশের শহরগুলির নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ কিয়েভের
এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর জন্য কিয়েভের উপর চাপ তৈরি করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনকে সমঝোতায় বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনীয় আধিকারিকদের একাংশ।
{{/usCountry}}এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর জন্য কিয়েভের উপর চাপ তৈরি করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনকে সমঝোতায় বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনীয় আধিকারিকদের একাংশ।
{{/usCountry}}তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এই পরিবর্তনের নির্দেশ দেননি। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো অবশ্য স্বীকার করেছেন, স্টারলিঙ্কের পরিষেবায় কিছুটা গতি কমানোর ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে। অন্যদিকে, ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্টারশিল্ডের নিয়ন্ত্রণ পেন্টাগনের হাতে। রুবিয়োর বক্তব্য, স্টারলিঙ্ক ও স্টারশিল্ডে কারা পরিষেবা পাবেন, তা নির্ধারণ করে স্পেসএক্স। ফলে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আমেরিকার প্রশাসন ও স্পেসএক্সের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। স্টারশিল্ডের পরিষেবা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি এবং রাশিয়ার হামলা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিবের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।
ইউক্রেনীয় সেনার আশঙ্কা, এই প্রযুক্তিগত সমস্যার খেসারত শুধু ড্রোন হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রুশ বাহিনীর উপর পাল্টা হামলার গতি কমলে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সেনাদের ঝুঁকিও বাড়বে। ফলে আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে স্যাটেলাইট যোগাযোগের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, স্টারশিল্ড বিতর্কে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।