রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বড় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইউক্রেন সফরের আগে কিয়েভে তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভকে উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে। শনিবার উইটকফ এবং কুশনারের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে পুতিনের। ফলে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের আগে রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি উইটকফ এবং তাঁর জামাই ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নিতে আসছেন। যুদ্ধের ময়দানে যখন পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়েছে, তখন এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে নতুন করে কোনও সমঝোতার পথ খোলা যায় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে রাশিয়ার হামলা-বিরতির ঘোষণার মাঝেই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, কিয়েভ এবং আশপাশের বোরিসপিল এলাকার বিমানবন্দরগুলিতে রুশ হামলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন প্রতিনিধিদের ইউক্রেনে পৌঁছনোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরই বিমানবন্দরগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের আকাশপথ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কোনও বেসামরিক বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ। তবে মার্কিন শান্তি আলোচকদের সম্ভাব্য সফরের জন্য এবার বিমানযোগে তাঁদের কিয়েভ বা বোরিসপিল বিমানবন্দরে নামানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেই কারণেই রাশিয়া বিমানবন্দরগুলিকে লক্ষ্য করেছে বলে অভিযোগ ইউক্রেনের।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোন দিয়ে চালানো হামলা আসলে মার্কিন কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ একদিকে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা—এই দ্বৈত পরিস্থিতির মধ্যেই এগোচ্ছে শান্তি আলোচনা।
{{/usCountry}}ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোন দিয়ে চালানো হামলা আসলে মার্কিন কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ একদিকে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা—এই দ্বৈত পরিস্থিতির মধ্যেই এগোচ্ছে শান্তি আলোচনা।
{{/usCountry}}এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর বিশেষ দূতরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতগুলির একটি হয়ে ওঠা এই যুদ্ধে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতেই ওয়াশিংটনের নতুন উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই। এর ফলে যুদ্ধের শুরু থেকে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক ব্যস্ততার কারণে শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়েছে।
এর আগে এক সপ্তাহেরও বেশি আগে মস্কোয় বিরল সফর করেছিলেন সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির উপর হামলা না চালানোর ব্যাপারে রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন।
সব মিলিয়ে পুতিনের তিন দিনের হামলা-বিরতির নির্দেশ এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের রাশিয়া ও ইউক্রেনকেন্দ্রিক কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধের ময়দানে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর শনিবারের বৈঠক এবং পরবর্তী মার্কিন-ইউক্রেন আলোচনার দিকে। সেখান থেকে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী শান্তির কোনও বাস্তব রূপরেখা বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই দেখার।