UN on India's UNSC Reform Demand: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বা UNSC-তে সংস্কার নিয়ে ভারতের দাবি এবার আরও জোরালো হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যকে সমর্থন করলেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক। শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে মোদী বলেছিলেন, UNSC সংস্কার আর পিছিয়ে দেওয়া যায় না। তার পরেই দ্যুজারিক বলেন, বর্তমান কাঠামো একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতাকে আর তুলে ধরে না।
১৯৪৫-এর কাঠামো কি এখনও যথেষ্ট?

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমানে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে। এই কাঠামো তৈরি হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বাস্তবতায়। দ্যুজারিকের বক্তব্য, এখন বিশ্ব অনেক বদলে গেছে। তাই রাষ্ট্রসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলিকেও বদলাতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাঠামোতেও ২০২৬ সালের বাস্তবতা প্রতিফলিত হওয়া দরকার। ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি ঠিক এটাই। বিশ্বের বর্তমান অর্থনীতি ও জনসংখ্যার বাস্তবতার সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোকে মানিয়ে নেওয়া।
‘ক্ষমতার পিরামিড’ বদলে ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চ’
ব্রিকসের এক অধিবেশনে মোদী বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব পরিচালনার বর্তমান কাঠামো অনেকটা পিরামিডের মতো। ক্ষমতা রয়েছে উপরের স্তরে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলির মতামত থাকে সীমিত। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি নানা সংকটের সামনের সারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেকটাই পিছনের সারিতে। এই পরিস্থিতি বদলে ‘পিরামিড অফ প্রিভিলেজ’-কে ‘প্ল্যাটফর্ম অফ পার্টনারশিপ’-এ পরিণত করার প্রস্তাব দেন মোদী। অর্থাৎ, প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
ব্রিকসের সংস্কার রোডম্যাপের প্রস্তাব
মোদী ব্রিকস দেশগুলিকে একসঙ্গে ১০টি সংস্কার প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান। পরের ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে এগুলিকে একটি ‘ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ’-এ পরিণত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এই রোডম্যাপে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেগুলি হল প্রতিনিধিত্ব, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ম তৈরির ক্ষমতা। UNSC সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আলোচনা এবং স্পষ্ট ফলাফলের উপরও জোর দেন তিনি।
নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে ভারতের পাশে ব্রিকস
{{/usCountry}}মোদী ব্রিকস দেশগুলিকে একসঙ্গে ১০টি সংস্কার প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান। পরের ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে এগুলিকে একটি ‘ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ’-এ পরিণত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এই রোডম্যাপে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেগুলি হল প্রতিনিধিত্ব, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ম তৈরির ক্ষমতা। UNSC সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আলোচনা এবং স্পষ্ট ফলাফলের উপরও জোর দেন তিনি।
নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে ভারতের পাশে ব্রিকস
{{/usCountry}}নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রেও রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিকস নিরাপত্তা পরিষদকে আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল এবং কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ব্রিকস জানিয়েছে, UNSC সংস্কারের ফলে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠ আরও জোরালো হওয়া উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চিন ও রাশিয়া ভারত ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রসংঘে আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
IMF, বিশ্বব্যাঙ্কেও সংস্কারের দাবি
শুধু UNSC নয়। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সংস্কারের দাবি তুলেছে ব্রিকস। IMF ও বিশ্বব্যাঙ্কের মতো প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ব্রিকসের বক্তব্য, বিশ্ব অর্থনীতিতে উদীয়মান দেশগুলির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। সেই পরিবর্তন তাদের প্রতিনিধিত্বেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
WTO নিয়েও বড় বার্তা
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস। WTO-র বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা দ্রুত পুরোপুরি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। একতরফা ট্যারিফ এবং বাণিজ্য বাধার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের অনুমোদন ছাড়া আর্থিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতাও জানিয়েছে ব্রিকস।
সংঘাত মেটাতে ভারতকে ‘ব্রিজ বিল্ডার’ বলল রাষ্ট্রসংঘ
এদিকে গুতেরেসের সঙ্গে মোদীর বৈঠকেও বিশ্ব রাজনীতির একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেনের সংঘাত ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। দ্যুজারিক জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে সংঘর্ষে থাকা পক্ষগুলির মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে ভারতের ভূমিকা থাকতে পারে।
ভারতের নেতৃত্বের প্রশংসা
নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র নিয়ে ভারতের সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করেছে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের দফতর। দ্যুজারিকের মতে, ব্রিকসের মতো একটি গোষ্ঠীর যৌথ ঘোষণাপত্রে পৌঁছতে পারা ভারতের সভাপতিত্বের কৃতিত্ব। সব মিলিয়ে, UNSC সংস্কার নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিতে এবার আন্তর্জাতিক সমর্থনের মাত্রা আরও বাড়ল। ব্রিকসের মঞ্চে মোদীর বার্তার পর রাষ্ট্রসংঘের সায় সেই দাবিকে নতুন কূটনৈতিক গতি দিল।