মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে বিতর্কের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টিকে আন্দোলনের পথ বদলানোর পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিতে আন্দোলন না করে বরং ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা নিয়ে পথে নামা উচিত দলের। নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই আন্দোলনের জেরেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে প্রধানকে সরানো হয়। তাই এ বার জ্ঞানেশ কুমারের বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন আঠাওয়ালে।

রবিবার এই প্রসঙ্গে আঠাওয়ালে বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি তৈরি হয়েছিল নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে। সেই আন্দোলনে তাদের দাবি মেনে পদক্ষেপও করা হয়েছে। এ বার পড়ুয়াদের শিক্ষার অধিকার, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং শিক্ষা নীতির মতো বিষয় নিয়ে আন্দোলন করা উচিত। নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে লাভ নেই বলেই মনে করেন তিনি।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন তিনি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
আঠাওয়ালের পাল্টা দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ছ’কোটি ভোটার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন। চাকরি বা ব্যবসার কারণে তাঁদের ঠিকানা বদলেছে। প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম দু’জায়গায় ছিল। তাঁদের ক্ষেত্রে একটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় তিন কোটি ভোটারের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই যুক্তিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তবে এই পরিসংখ্যান তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন ভাবে যাচাই করা তথ্য নয়।
রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেছেন আঠাওয়ালে। কংগ্রেসের ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বেড়েছে। তা হলে কি সেই ফলকেও ভোট চুরির ফল বলা হবে? তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে বিরোধীরা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
{{/usCountry}}রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেছেন আঠাওয়ালে। কংগ্রেসের ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বেড়েছে। তা হলে কি সেই ফলকেও ভোট চুরির ফল বলা হবে? তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে বিরোধীরা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
{{/usCountry}}এ দিকে সোমবার দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্য দিকে, ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাইতে দিল্লি পুলিশের কাছে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। দলের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মসূচির অনুমতি না মিললে নিজেরাই আন্দোলনের স্থান ও সময় ঘোষণা করবেন।
এর আগে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের কয়েক জন নেতা। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি। এই পরিস্থিতিতে আঠাওয়ালের পরামর্শ আন্দোলনকারীদের অবস্থান বদলায় কি না, এখন নজর সে দিকেই।