Deep time cosmological predictions: মহাবিশ্বের জন্ম যেমন একটি রহস্য, এর শেষ বা পরিণতি ঠিক কবে—তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এতদিন পর্যন্ত আমরা জানতাম যে, মহাবিশ্ব ধ্বংস হতে এখনও কোটি কোটি বা ট্রিলিয়ন বছর বাকি। কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মহাবিশ্বের আয়ু আমরা যা ভাবতাম, তার চেয়ে অনেক কম। অর্থাৎ, 'কসমোলজিক্যাল ডিপ টাইম' বা মহাজাগতিক সময়রেখার যে ভবিষ্যৎবাণী এতদিন করা হয়েছিল, তা সংশোধন করার সময় এসেছে।
কেন মহাবিশ্বের আয়ু কমে আসছে?

মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিজ্ঞানী এডউইন হাবল প্রথম এটি আবিষ্কার করেছিলেন, যা আজ 'ডার্ক এনার্জি' (Dark Energy) তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ডার্ক এনার্জি স্থির নয়; বরং এটি সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী বা অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ডার্ক এনার্জির এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব মহাবিশ্বকে এতোটাই দ্রুত প্রসারিত করছে যে, গ্যালাক্সি, নক্ষত্র এমনকি পরমাণুগুলোও একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
বিগ রিপ (Big Rip) এবং মহাপ্রলয়ের নতুন তারিখ
আগে ধারণা করা হতো মহাবিশ্ব শেষ হবে ‘বিগ ফ্রিজ’ (Big Freeze) বা তাপীয় মৃত্যুর মাধ্যমে। কিন্তু নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘বিগ রিপ’ বা ‘মহাচ্যুতি’-র দিকে। এই তত্ত্বে বলা হয়, মহাবিশ্বের প্রসারণের বেগ একসময় অসীম হয়ে যাবে এবং স্থান-কাল (Space-time) নিজেই ছিঁড়ে যাবে। গবেষকদের মতে, এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়াটি আগে যা অনুমান করা হয়েছিল, তার চেয়ে কয়েক বিলিয়ন বছর আগেই ঘটতে পারে। যদিও এই ‘আগে’ শব্দটিও মানুষের আয়ুর তুলনায় বিশাল, তবুও মহাজাগতিক হিসেবে এটি এক বড় পরিবর্তন।
মহাজাগতিক শূন্যতা এবং অস্থিতিশীলতা
গবেষণাটি মূলত কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন এবং মহাজাগতিক শূন্যতার (Vacuum Instability) ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, হিগস বোসন কণা বা ‘গড পার্টিকেল’-এর স্থায়িত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা আরও জোরালো হচ্ছে। যদি হিগস ফিল্ডের পতন ঘটে, তবে মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আলোর গতিতে একটি ‘বাবল’ বা বুদবুদ ছড়িয়ে পড়বে, যা মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আগের চেয়ে বেশি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
আমাদের ওপর এর প্রভাব কী?
{{/usCountry}}গবেষণাটি মূলত কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন এবং মহাজাগতিক শূন্যতার (Vacuum Instability) ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, হিগস বোসন কণা বা ‘গড পার্টিকেল’-এর স্থায়িত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা আরও জোরালো হচ্ছে। যদি হিগস ফিল্ডের পতন ঘটে, তবে মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আলোর গতিতে একটি ‘বাবল’ বা বুদবুদ ছড়িয়ে পড়বে, যা মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আগের চেয়ে বেশি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
আমাদের ওপর এর প্রভাব কী?
{{/usCountry}}সাধারণ মানুষের জন্য আশার কথা হলো, এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনই ঘটছে না। কোটি কোটি বছর পর পৃথিবী বা সৌরজগৎ যখন বিলীন হয়ে যাবে, তারও অনেক পরে এই মহাজাগতিক সমাপ্তি ঘটবে। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এটি আমাদের বর্তমান মহাজাগতিক মডেল বা 'স্ট্যান্ডার্ড মডেল'-কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
শেষ কথা
মহাবিশ্বের সমাপ্তি সংক্রান্ত এই নতুন তথ্য বিজ্ঞানীদের মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ধরন বদলে দিচ্ছে। যদি ডার্ক এনার্জি সত্যিই আরও দ্রুত কাজ করে, তবে আমাদের গ্যালাক্সির প্রতিবেশী নক্ষত্রগুলো হয়তো আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক আগেই আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাবে। অন্ধকার মহাবিশ্বের এই রহস্যময় সমাপ্তি আমাদের অস্তিত্বের ক্ষণস্থায়ী রূপকেই বারবার মনে করিয়ে দেয়।