...
...
Next Story

PoK Protest: পাক সেনাকে চ্যালেঞ্জ ১০-১২ বছরের পড়ুয়াদের! PoK-তে আরও বিপদের মুখে ইসলামাবাদ

PoK Protest: রাওয়ালকোটের ইদগাহ ময়দানের প্রধান বিক্ষোভস্থলে ৭০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী ১১ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। সেখানে কয়েক ডজন স্কুল পড়ুয়াও হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।

Published on: Jun 23, 2026 06:10 PM IST
Advertisement

PoK Protest: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ১৪ দিন ধরে টানা গণবিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন এই আন্দোলন এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। অঞ্চলের স্বাধীনতা এবং পাকিস্তানের 'বেআইনি দখলদারি'র অবসানের দাবিতে এবার দলে দলে স্কুল পড়ুয়া ও সাধারণ মহিলারাও রাজপথে নেমে এসে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন।

পিওকে আন্দোলনে নজিরবিহীন মোড়
পিওকে আন্দোলনে নজিরবিহীন মোড়

সূত্রের খবর, রাওয়ালকোটের ইদগাহ ময়দানের প্রধান বিক্ষোভস্থলে ৭০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী ১১ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। সেখানে কয়েক ডজন স্কুল পড়ুয়াও হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। তাদের হাতের প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল- 'পাক সেনা হঠাও, হঠাও', 'পাক সেনা কাশ্মীরিদের হত্যা করছে', 'কাশ্মীরে পাকিস্তানি আগ্রাসন চলছে', 'আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার চাই', 'আমাদের বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার দাও', 'খাদ্য সরবরাহ বন্ধ, ইন্টারনেটও স্তব্ধ' এবং 'রাষ্ট্রসংঘ, আমাদের দিকে নজর দিন।' ১০ থেকে ১২ বছর বয়সি ওই ছাত্রছাত্রীদের প্রকাশ্যে স্বাধীনতার স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে।

শহর ও গ্রাম জুড়ে মহিলাদের মিছিল

শহর ও গ্রাম জুড়ে মহিলারা মিছিল করছেন। রাওয়ালকোট ছাড়িয়ে বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সুধনতি জেলার তারার খেল এলাকায় স্কুল পড়ুয়ারা একটি চত্বরে জড়ো হয়ে স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান তোলে। অন্যদিকে, মানধোলে শত শত মহিলা পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীকে ‘দখলদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এবং স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান তুলে এক বিশাল মিছিল করেন। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক সরদার আমান খান ঈদগাহ ময়দানে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানি প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের চাল দেওয়ার বা চালচলনের জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, অথচ পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের সামনে এখনও অনেক বিকল্প খোলা রয়েছে। সভাস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশ্যে খান গর্জে উঠে বলেন, 'পাকিস্তান সেনাবাহিনী যদি এই দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখে, তবে সমগ্র সামরিক কাঠামোকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে চিরতরে হটিয়ে দেওয়া হবে।' পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে খান অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ওপর অতীতে হওয়া সেনা তান্ডবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাঙালিদের ওপর অতীতে হওয়া নৃশংসতা এবং বর্তমানে বালোচ ও পশতুন জনগোষ্ঠীর ওপর চলা লাগাতার দমন-পীড়নের উদাহরণ টেনে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। সেই সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'কাশ্মীরিরা যদি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তিতে বাঁচতে না পারে, তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও এখানে থাকতে পারবে না।'

আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির ডেডলাইন

অন্যদিকে, এই গণ-বিক্ষোভের সমান্তরালে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। গত ৫ জুন থেকে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গত ১৪ জুন থেকে পিওকে-তে প্রবেশের প্রধান পথগুলোতে খাদ্যসামগ্রী বোঝাই ট্রাকগুলো আটকে দিয়েছে পাক প্রশাসন। এর ফলে একাধিক এলাকায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫৮ জনের মৃত্যু

আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি-র দেওয়া ২৩ জুনের সময়সীমা আজই শেষ হতে চলায়, পিওকে-র আন্দোলনকারী এবং পাকিস্তানি প্রশাসনের মধ্যে এই সংঘাত এখন এক চরম ও অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe