পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশেও। সেই রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে দুই কোটি নাম বাদ পড়েছে। আর তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি যে সকল বড় শহরগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে, সেখান থেকেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোতেও কমবেশি ভোটার নাম কেটেছে। তবে সেই হার তুলনামূলক ভাবে কম। এই আবহে উত্তরপ্রদেশে 'কোন দলের ভোট' কাটা হয়েছে কোথায়? এই ছবিটি পরিষ্কার নয়। তবে দাবি করা হচ্ছে, বিজেপি যে সব বড় শহরে ২০২২ সালের বিধানসভা ভোটে ভালো ফল করেছিল, সেখানে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলিতে ভোটারের নাম কাটার হার ৯ থেকে ১১ শতাংশ।

যদি উত্তরপ্রদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলির ওপর নজর দেওয়া যায়, তাহলে দেখা যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম ভোট কাটছাঁট হয়। উদাহরণস্বরূপ, সাহারানপুরে ১০.৪৮ শতাংশ ভোটারের নাম কাটা পড়েছে। মুজাফফরনগরে ১০.৩৮ শতাংশ, শামলিতে ১০.৯৩ শতাংশ, মোরাদাবাদে ১০ শতাংশ, আমরোহায় ৮.৯২ শতাংশ, আজমগড়ে ৯.৪৬ শতাংশ, মাউতে ১১.৫৩ শতাংশ এবং গাজিপুরে ১০.৮৯ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পেয়েছে।
এই জেলাগুলি ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মেরুকরণের প্রভাব দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে যেসব শহরে বিজেপির আধিপত্য দেখা গিয়েছিল, সেখানে ভোটারের নাম বাদ পড়ার হার অনেকটা বেশি। যেমন, লখনউতে নাম বাদ পড়েছে প্রায় ২২.৮৯ শতাংশ ভোটারের। গৌতম বুদ্ধ নগরে (নয়ডা) ১৯.৩৩ শতাংশ, কানপুর নগরে ১৯.৪২ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মিরাটে আবার ২০২২ সালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল এসপি-বিজেপির। সেখানে ১৮.৭৫ শতাংশ ভোটারের নাম কেটে ফেলা হয়। এদিকে আগরায় ১৭.৭১ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এসআইআরে। অন্যদিকে শাহজাহানপুরে ১৭.৯০ শতাংশ ভোট বাদ পড়েছে। এদিকে প্রয়াগরাজে বাদ পড়েছে ৮.২৬ লাখ ভোটারের নাম।