UPSC Civil Serivces Self-Study Tips: টেস্ট ক্রিকেটের স্টাইলে পড়াশোনা করেছিলেন। আর তাতেই সাফল্য লাভ করেছেন মধ্যপ্রদেশের ভূমিকা জৈন। ২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় দেশের মধ্যে ৩৩১ তম স্থান অধিকার করেছেন। পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলেন তিনি। তবে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের প্রতি টানের শুরুটা হয় অনেক পর থেকে।
করোনা মহামারী এবং প্রশাসনিক স্তরে কাজ করার অনুপ্রেরণা

কলেজ জীবনেই যে ভূমিকা সিভিল সার্ভিসে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এমনটা নয়। ইউপিএসসি পরীক্ষার দেওয়ার মূল অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে। ভূমিকা লক্ষ্য করেছিলেন যে, লকডাউন ও স্বাস্থ্য সংকটের সময়ে কীভাবে প্রশাসনিক আধিকারিকরা দিনরাত এক করে সাধারণ মানুষের সাহায্য করছেন এবং সরকারের নীতি রূপায়ণ করছেন। এই ঘটনা তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়।
টানা দু’বার প্রিলিমসের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
দিল্লিতে তিন বছর থেকে কঠিন প্রস্তুতি শুরু করলেও ভূমিকার শুরুর সফরটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম দুটি অ্যাটেম্পটে তিনি ইউপিএসসির প্রথম ধাপ অর্থাৎ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। দু’বারই খুব সামান্য নম্বরের ব্যবধানে কাট-অফ থেকে পিছিয়ে পড়েন তিনি।
সেই ধাক্কা যে কোনও পরীক্ষার্থীকৈ মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ভূমিকা হার মানেননি। তিনি নিজের ভুলগুলি বিশ্লেষণ করেন, দুর্বলতাগুলির ওপর কাজ করেন এবং নিজের রণকৌশলে বড়সড় বদল আনেন। এই ব্যর্থতাগুলিই আসলে তাঁর তৃতীয় অ্যাটেম্পটে সাফল্যের এক মজবুত ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
কোচিং ছেড়ে ‘সেলফ স্টাডি’ এবং দৈনিক ৯-১২ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রম
অনেকেরই ধারণা থাকে যে, বড় কোনও নামী কোচিং সেন্টারে না পড়লে হয়তো ইউপিএসসি পাশ করা অসম্ভব। কিন্তু ভূমিকা এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। নিজের প্রথম অ্যাটেম্পটে বেসিক মজবুত করার জন্য তিনি কিছুটা কোচিংয়ের সাহায্য নিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে সেলফ স্টাডি বা নিজস্ব পড়াশোনার ওপর জোর দেন। ভূমিকার মতে, সঠিক রণকৌশল এবং পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা থাকলে ঘরে বসেই দেশের এই কঠিনতম পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব।
পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে ভূমিকা জানান, তিনি প্রতিদিন গড়ে নয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। তবে পরীক্ষার দিন যত এগিয়ে আসত, পড়াশোনার সময় বাড়িয়ে তিনি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করতেন। তাঁর পড়ার একটি নির্দিষ্ট ধরণ ছিল - সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি আগের দিন যা পড়েছেন, তা প্রথমে রিভিশন করতেন। এরপর সারাদিনে কী কী পড়বেন, তা নিয়ে ছোটো-ছোটো ‘টার্গেট’ করে নিতেন। অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটে যেমন ছোটো-ছোট টার্গেট বেছে নেওয়া হয়, সেটাই করতেন। অসংখ্যবার মক টেস্ট দিয়েছিলেন। এবং বিগত বছরগুলির প্রশ্নপত্র সমাধান করেছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার
আজকালকার দিনে ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখেন। তবে ভূমিকা এখানেও স্মার্টনেসের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি ত্যাগ না করে তার সঠিক ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখান থেকে প্রতিদিনের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতেন।