UPSC Civil Services Success Story: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসে বাজিমাত করলেন আশিস শর্মা। ১০ বছরেই মাতৃহারা হয়েছিলেন। মা চেয়েছিলেন যে ছেলে বড় সরকারি অফিসার হয়। আর মায়ের স্বপ্নপূরণ করলেন ছেলে। শেষ অ্যাটেম্পটের আগে তিনি পালটে ফেলেন নিজের কৌশল।
UPSC Civil Services Success Story: দশ বছরেই মা'কে হারিয়েছিলেন। সেই মায়ের দেখানোর স্বপ্নপূরণের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেন। শেষপর্যন্ত মায়ের স্বপ্নপূরণ করে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করেন মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের আশিস শর্মা। যিনি প্রথম অ্যাটেম্পটেই ইন্টারভিউ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তৃতীয় অ্যাটেম্পটেও তাই হয়েছিল। শেষপর্যন্ত পঞ্চম অ্যাটেম্পটের আগে নিজের কৌশল পালটে সেই বাধা অতিক্রম করে যান আশিস।
আশিসের প্রাথমিক পড়াশোনা ছিল গোয়ালিয়রেই। যখন ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেন, তখন ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন 'নৃতত্ত্ব' বা অ্যানথ্রোপোলজি। প্রথাগত ও জনপ্রিয় বিষয়গুলি বাদ দিয়ে এই ভিন্নধর্মী বিষয় বেছে নেওয়াটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দ্বাদশ শ্রেণিতে বায়োলজি পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর এই বিষয়টিকে সহজে বুঝতে সাহায্য করেছিল। পরবর্তীকালে এই নৃতত্ত্বই তাঁর সাফল্যের অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
ইউপিএসসির প্রথম অ্যাটেম্পটেই প্রিলিমিনারি ও মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরাসরি ইন্টারভিউ পর্বে পৌঁছে গিয়েছিলেন আশিস। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি। তৃতীয় অ্যাটেম্পটে আবার ইন্টারভিউ বোর্ডে পৌঁছালেও চূড়ান্ত সাফল্য অধরাই থেকে যায়। শেষপর্যন্ত পঞ্চম অ্যাটেম্পটে বাজিমাত করেন আশিস। ১৮৬ তম স্থান অধিকার করেন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায়।
পঞ্চম অ্যাটেম্পটের সময় আশিস বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইন্টারভিউ বোর্ডে পৌঁছালেও মেইনস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পাওয়ার কারণেই তিনি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। তাই পঞ্চম অ্যাটেম্পটে উত্তর লেখার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনেন। আগে সংক্ষিপ্ত উত্তর লিখতেন। কিন্তু এবার তিনি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আরও বিস্তারিত ও পয়েন্ট আকারে লেখা শুরু করেন। উত্তরকে আকর্ষণীয় করতে প্রচুর ডায়াগ্রাম, চার্ট, ম্যাপ এবং টেবিল যুক্ত করেন।
টপারদের খাতা বিশ্লেষণ করে তিনি বুঝতে পারেন কীভাবে একটি সাধারণ উত্তরকে অসাধারণ করে তোলা যায়। এর পাশাপাশি তিনি সমসাময়িক ঘটনা বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের বাস্তব উদাহরণ তাঁর উত্তরের সঙ্গে জুড়ে দেন। এই অভিনব কৌশলের ফলেই নৃতত্ত্বে তাঁর নম্বর আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায় এবং তাঁর ভাগ্য বদলে যায়।
অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা:
নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা:
অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।