UPSC Civil Services Success Story: বাসের মধ্যেই মায়ের অপমানের জবাব দিতে IPS হলেন শালিনী, প্রথমবারই UPSC-তে বাজিমাত
UPSC Civil Services Success Story: মায়ের অপমানই বদলে দিল জীবন। কোনওরকম কোচিং সেন্টার ছাড়াই প্রথম অ্যাটেম্পটে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ক্র্যাক করে আইপিএস অফিসার হলেন শালিনী অগ্নিহোত্রী। নেপথ্যে রয়েছে বড় কাহিনী।
UPSC Civil Services Success Story: সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। বাবা হিমাচল স্টেট রোডওয়েজের একজন বাস কন্ডাক্টর। কিন্তু স্বপ্ন দেখার পথে দারিদ্র্য বা সীমিত পরিধি কোনওদিনই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি হিমাচল প্রদেশের উনা জেলার বাসিন্দা শালিনী অগ্নিহোত্রীর জীবনে। শৈশবের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতাই তাঁর মনের ভেতর জেদ তৈরি করে দিয়েছিল সমাজের শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর। আর সেই জেদের ওপর ভর করেই কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিশ্রমে জীবনের প্রথম অ্যাটেম্পটেই ২০১১ সালে মাত্র ২২ বছরেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস ক্র্যাক করেন। অধিকার করেন ২৮৫ তম স্থান। আইপিএস অফিসার হন শালিনী অগ্নিহোত্রী।

মায়ের অপমান ও 'ডিসি' হওয়ার পিছনের সেই ক্ষোভ
শালিনীর জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ার গল্পশুরু হয়েছিল তাঁর শৈশবে, একটি সাধারণ সরকারি বাসে যাতায়াত করার সময়। একদিন শালিনী তাঁর মায়ের সঙ্গে একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন, যে বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন স্বয়ং তাঁর বাবা। বাসে ছিল ভিড়ে ঠাসা।
বাসে দাঁড়িয়ে থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি শালিনীর মায়ের সিটের পিছনে হাত দিয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শালিনীর মা অত্যন্ত ভদ্রভাবে ও বিনীতভাবে সেই ব্যক্তিকে অনুরোধ করেন হাতটি সরিয়ে অন্য কোথাও ধরতে। কিন্তু সেই অপরিচিত ব্যক্তিটি বিনীত অনুরোধ রক্ষা করা তো দূরের কথা, অত্যন্ত অভদ্র ও তাচ্ছিল্যের সুরে চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘আপনি কি কোনও ডিসি হয়ে গিয়েছেন যে আপনার কথা আমায় শুনতে হবে?’
সেদিন মায়ের এই অপমান ছোট্ট শালিনীকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মা অসহায়ভাবে সেই অপমান মুখ বুজে সহ্য করলেও, শালিনীর অবুঝ মনে তখন একটি বড় প্রশ্ন খোদাই হয়ে যায়— এই 'ডিসি' আসলে কে, যার কথা সবাই শুনতে বাধ্য হয়? পরবর্তীতে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় সেই বিষয়ে জানতে পারেন। আর তখনই ঠিক করে নেন নিজের স্বপ্ন।
শিক্ষা জীবন কেমন ছিল?
শালিনী পড়াশোনায় প্রথম থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। হিমাচলের ধর্মশালা থেকে স্কুল জীবন শেষ করে তিনি দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৭৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি হিমাচল প্রদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক ও পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
বিনা কোচিংয়ে প্রথমবারেই বাজিমাত: UPSC ক্র্যাক
কলেজে পড়ার সময় থেকেই শালিনী গোপনে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তিনি তাঁর পরিবারকেও বিষয়টি জানাননি, যাতে ব্যর্থ হলে কেউ দুঃখ না পায়। সেলফ-স্টাডির মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নিয়মিত খবরের কাগজ পড়া, সিলেবাস খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১১ সালে তিনি প্রথমবারেই বাজিমাত করেন। তারপর ইউপিএসসিতে বাজিমাত করে আইপিএস ক্যাডারের জন্য মনোনীত হন। হিমাচল প্রদেশের ক্যাডারই অ্যালোট করা হয়।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


