UPSC Civil Services Success Story: দিনে অফিসে, রাতে UPSC সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি! কীভাবে IFS অফিসার হলেন পূজ্য?
UPSC Civil Services Success Story: তিনটি ব্যর্থতার পরেও সাহস কমেনি, চাকরির প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়ে পূজ্য প্রিয়দর্শিনী ২০১৮ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ১১ স্থান অধিকার করেছিলেন পূজ্য প্রিয়দর্শনী। আইএফএস হয়ে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
UPSC Civil Services Success Story: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় মনে হয়, কাছে গিয়ে দেখলে সেই পথটি ঠিক ততটাই কঠিন বলে মনে হয়। এই পরীক্ষা কেবল বইয়ের জ্ঞান পরীক্ষা করে না, বরং একজন মানুষের ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং বারবার ব্যর্থ হয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার আসল পরীক্ষা নেয়। এখানে সফল হতে গেলে দীর্ঘ লড়াই লড়ার মানসিকতা থাকা জরুরি। এমনই এক অদম্য লড়াইয়ের উদাহরণ হলেন ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) অফিসার পূজ্য প্রিয়দর্শিনী। পরপর তিনবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েও যিনি হার মানেননি। সবথেকে বড় বিষয় হল, তিনি কোনও বড় কর্পোরেট চাকরি না ছেড়েই কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝে এই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছেন।

প্রথম তিন প্রচেষ্টা ও ব্যর্থতার ধাক্কা
পূজ্যের ইউপিএসসি সফরের শুরুটা মসৃণ ছিল না। ২০১৩ সালে নিজের গ্র্যাজুয়েশনের ফাইনাল ইয়ারে পড়ার সময় তিনি প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্স থেকে বি.কম (B.Com) সম্পন্ন করার সময়ই তিনি পরীক্ষায় বসেন। তবে সেই সময় তাঁর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ ছিল না, যার ফলে প্রথমবারেই তিনি ব্যর্থ হন। এই ধাক্কা যে কোনও সাধারণ পরীক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু পূজ্য এটিকে তাঁর সফরের শেষ বলে মেনে নেননি।
তিনি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে যান এবং সেখান থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। বিদেশে পড়াশোনা, পরবর্তীতে চাকরি এবং তার সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয়কে একসাথে সামলানো মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু পূজ্য সময়ের এমন এক নিখুঁত ভারসাম্য তৈরি করেছিলেন যে তাঁর প্রস্তুতির গতি কখনও কমেনি।
চাকরি বজায় রেখে কঠিন রুটিন
সাধারণত দেখা যায়, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বহু পরীক্ষার্থী ফুল-টাইম পড়াশোনা করতে গিয়ে নিজেদের চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু পূজ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি নিজের চাকরি বজায় রেখেই প্রস্তুতি আরও মজবুত করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দৈনিক রুটিন ছিল অত্যন্ত কঠোর ও অনুশাসনে বাঁধা। দিনের বেলাটা কাটত অফিসের কাজে আর রাতগুলো থাকত মোটা-মোটা বই, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের নোটস এবং উত্তর লেখার জন্য। এই কঠিন সময়টাই তাঁকে চরম আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মানুবর্তিতা শিখিয়েছিল। সারাদিনের অফিসের ক্লান্তির পরেও কীভাবে নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা যায়, তা তিনি এই পর্বেই রপ্ত করেছিলেন।
২০১৭: জীবনের সবচেয়ে কঠিন অন্ধকার অধ্যায়
২০১৬ সালের পরীক্ষায় পূজ্য সাফল্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং হতাশাজনক পর্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়। এই বছর তিনি ইউপিএসসির প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও পাশ করতে পারেননি। চারপাশের চাপ এবং বারবার ব্যর্থতায় তাঁর আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। তিনি সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন চিরতরে ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবে ফেলেছিলেন।
ঠিক এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার তাঁর শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়ায়। পূজ্যের বাবা-মা নিজেরাই সিভিল সার্ভিসের সাথে যুক্ত ছিলেন, তাই তাঁরা এই পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ খুব ভালোভাবেই বুঝতেন। তাঁরা পূজ্যকে ভেঙে পড়তে দেননি এবং বোঝান যে—ব্যর্থতা এই পরীক্ষার একটি অংশ মাত্র, এটি জীবনের শেষ নয়।
কৌশল পরিবর্তন ও ঘুরে দাঁড়ানো
পরিবারের সমর্থনে অনুপ্রাণিত হয়ে পূজ্য নিজের ভুলগুলো খতিয়ে দেখতে বসেন। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন, ‘ঠিক কোথায় খামতি থেকে যাচ্ছে?’ তিনি বুঝতে পারেন যে কেবল কঠোর পরিশ্রম নয়, দরকার সঠিক কৌশলের। এরপর তিনি নিজের পড়ার ধরণ সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন। যে বিষয়গুলোতে তিনি দুর্বল ছিলেন, সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত জোর দেন। মক টেস্ট দেওয়া এবং মেইনস পরীক্ষার জন্য উত্তর লেখার অভ্যেস ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বোঝার ক্ষেত্রে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন। এই গভীর আত্মবিশ্লেষণই তাঁর পুরো সফরের 'টার্নিং পয়েন্ট' বা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত ছিল।
২০১৮ সালের সেই ঐতিহাসিক সাফল্য
অবশেষে ২০১৮ সালে পূজ্যের বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকৃতি পায়। তিনি কেবল ইউপিএসসি পাশই করেননি, দেশজুড়ে অভাবনীয় প্রদর্শন করে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১১ অর্জন করেন। যে সাফল্যের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে লড়াই করছিলেন, তা ধরা দেয় এক ঐতিহাসিক রূপ নিয়ে। তাঁর র্যাঙ্ক এতটাই ভালো ছিল যে তিনি চাইলে অনায়াসেই আইএএস বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু পূজ্য প্রথম থেকেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশ্ব রাজনীতি এবং বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তাই তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে আইএফএস বেছে নেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


