UPSC Success Story: টাকা বাঁচাতে ৭ কিমি সাইকেল চালিয়ে পড়তে যেতেন, UPSC দিয়ে IAS হলেন কৃষকের ছেলে
UPSC Success Story: কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছা আর নিজের লক্ষ্যের প্রতি একনিষ্ঠ নিষ্ঠা থাকলে জীবনের কোনও প্রতিকূলতাই যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় প্রমাণ করে দেখালেন আদিত্য সিং।
UPSC Success Story: বাবা কৃষক ছিলেন। আর্থিক দিক থেকে পরিবার খুব ভালো জায়গায় ছিল না। সেখান থেকে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসকে জয় করেছেন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের আদিত্য সিং। অর্থনৈতিক অনটন, শত অভাব-অনটন এবং অনেক আত্মত্যাগের পর দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটেই হিন্দি মাধ্যমে সর্বভারতীয় স্তরে ৫০৮ তম স্থান অধিকার করেছেন। পূরণ করেছেন আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ছিল না আদিত্যের
উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আদিত্য। বাবা ছিলেন কৃষক। আর বাবা ছিলেন গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক অবস্থা কখনওই স্বচ্ছল ছিল না। কিন্তু অনটন কখনোই আদিত্যর পড়াশোনার স্পৃহাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর মনে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় দেওয়ার আকাঙ্খা জন্মায়।
যদিও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার আদিত্য ইউপিএসসি পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস বা প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে সেভাবে জানতেন না। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই স্নাতক স্তরের পড়াশোনা চলাকালীনই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: বাবা কামার হওয়ায় তাচ্ছিল্য করা হত, IAS হয়ে জবাব ছেলের, হাতখরচের জন্য করতেন কাজও
রোজ ১৪ কিমি সাইকেল চালাতেন পড়ার জন্য
সাধারণত ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য দিল্লিতে যাওয়া পছন্দ করেন। আদিত্যরও ইচ্ছা ছিল দিল্লিতে গিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সেই খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে বিকল্প হিসেবে তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজকে বেছে নেন। তবে আর্থিক স্বচ্ছলতা তেমন না থাকায় প্রায় সাত কিলোমিটার চালিয়ে কোচিংয়ে যেতেন। ফের সাত কিমি সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরতেন।
আরও পড়ুন: Success Story: মা বেচতেন সবজি, বাবা দিনমজুর, সেই ছেলেরই টানা ৩ বার UPSC-তে বাজিমাত, হলেন IPS
UPSC-তে বাজিমাত, IAS হলেন আদিত্য
সেইসঙ্গে ইউপিএসসি ক্র্যাক করার জন্য আদিত্য প্রতিদিন অন্তত আট থেকে নয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি পড়ার সময়সীমা দ্বিগুণ করে দেন। ২০২৪ সালে প্রথমবার দেন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা। পরবর্তীতে ৫০৮ তম স্থান অধিকার করে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসে বাজিমাত করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


