UPSC Topper Success Story: অচেনা বৃদ্ধার চোখের জল দেখে IAS হলেন শুভম, ৫ বার UPSC ক্র্যাক করেন, স্ত্রীও আমলা
UPSC Topper Success Story: অচেনা বৃদ্ধার চোখের জল দেখে আইএএস হলেন শুভম। ছয়বার বসেন ইউপিএসসি পরীক্ষায়। পাঁচবারই ক্র্যাক করেন। তাঁর স্ত্রীও আইএএস অফিসার। পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার ছিলেন তিনি। পরে পালটে দেন ক্যাডার।
UPSC Topper Success Story: অচেনা বৃদ্ধার চোখের জলই পালটে দিয়েছিল লক্ষ্য। আইএএস হওয়ার ব্রত নিয়েছিলেন। সেই শুভম ভাইসারে ছয়বারের মধ্যে পাঁচবার ইউপিএসসি পরীক্ষা ক্র্যাক করেন। শেষপর্যন্ত আইএএস অফিসার হন। ২০২১ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ৯৭ তম স্থান অধিকার করেন। তাঁর স্ত্রীও ২০২২ ব্যাচের আইএএস অফিসার। যিনি পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে ছিলেন।

বিচারকের ছেলে শুভম
শুভমের বাবা ছিলেন একজন জেলা জজ। বিচারকের সন্তান হওয়ার সুবাদে শুভম ছোটোবেলা থেকেই এমন এক পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছেন, যেখানে রোজ বহু মানুষ তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। বিচারক বাবার দেওয়া রায় সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা একেবারে কাছ থেকে দেখতেন। সেরকমভাবেই একদিন একটি মানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।
৭৫ বছরের বৃদ্ধার চোখের জলই সবকিছু পালটে যায়
সেদিন এক ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মহিলা শুভমের বাড়িতে এসেছিলেন। বৃদ্ধার মুখে ছিল বয়সের ও ক্লান্তির ছাপ, আর হাতে ছিল সবজি ভরতি একটি সাধারণ থলে। বৃদ্ধা জানিয়েছিলেন, এই সবজিগুলো শুভমের বিচারক বাবার জন্য নিয়ে এসেছেন। শুভম স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর বাবা কোনও ধরনের উপহার গ্রহণ করেন না। এই কথা শুনেই বৃদ্ধার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন, তাঁর কাছে দেওয়ার মতো কোনও দামি উপহার নেই। কিন্তু শুভমের বাবা আদালতে তাঁর পক্ষে যে রায় দিয়েছেন, তা এই বৃদ্ধার পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে।
বৃদ্ধার চোখের জল এবং সেই কৃতজ্ঞতা শুভমের মনে গভীর দাগ কেটে যায়। তিনি অনুভব করেন, প্রশাসনিক বা বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে কতটা বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ঠিক সেই মুহূর্তেই শুভম নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির করে নেন - তাঁকে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে হবে, যেখান থেকে সরাসরি মানুষের সেবা করা যায়। তিনি আইএএস অফিসার হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
কীভাবে পড়াশোনা করতেন শুভম?
সেই স্বপ্নপূরণও করেন শুভম। মোট ছ'বার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে পাঁচবারই ক্র্যাক করেন। হন আইএএস। তাঁর স্ত্রী'ও একজন আইএএস অফিসার। সবথেকে বড় ব্যাপার, চাকরি করতে-করতেই ইউপিএসসির প্রস্তুতি সারতেন শুভম। অফিস যাওয়া এবং আসার পথে যাতায়াতের পুরো সময়টা খবর পড়ার কাজে লাগাতেন। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের একটি বড় অংশ এভাবেই তৈরি করে ফেলেছিলেন। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে তিনি সোজা পড়ার টেবিলে বসে যেতেন। অফিসের সমস্ত জমানো ছুটি হিসাব করে রাখতেন এবং পরীক্ষার ঠিক আগে সেই ছুটিগুলি নিয়ে সম্পূর্ণ রিভিশনে মন দিতেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


