Bangladesh Uranium Update: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছল একটি বিশেষ বিমান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ওই চালান আনা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। অবতরণের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে চালানটি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বিমানটি কোন পথে বাংলাদেশে আসবে, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা ছিল। কারণ রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়। সেই অনুমতি নিয়ে প্রথমে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের তরফে অনুমোদন দিতে সময় লাগায় সংশয় তৈরি হয়, আদৌ নির্ধারিত পথে বিমানটি উড়তে পারবে কি না। শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতা কাটিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেই বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান অবশ্য অনুমতি দিতে দেরির জন্য কোনও রাজনৈতিক কারণের কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনেই বিদেশি উড়ানের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং কিছু কারিগরি প্রক্রিয়ার কারণে কখনও কখনও উড়ানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
ঢাকায় বিমান পৌঁছনোর পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালান গ্রহণ করেন। এর পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেটিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় রাতেই চালানটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শুক্রবার বিকেলেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান ঢাকায় পৌঁছনোর পরে তা রূপপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। পরিবহণের সময় নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}শুক্রবার বিকেলেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান ঢাকায় পৌঁছনোর পরে তা রূপপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। পরিবহণের সময় নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}এই চালান অবশ্য একবারে শেষ হচ্ছে না। সরকারি প্রস্তুতি অনুযায়ী, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মিলিয়ে আরও কয়েক দফায় রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসার কথা। মোট ৯টি ফ্লাইটে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য আরও ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, এই উড়ানগুলি রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছবে। ফলে প্রতিটি চালানের নিরাপদ পরিবহণে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম, অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রূপপুর প্রকল্পের জন্য এর আগেও ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে। এখন নতুন চালানের মাধ্যমে প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিমানটির বাংলাদেশে নিরাপদে পৌঁছনোই আপাতত স্বস্তির খবর। তবে রূপপুরের জন্য আগামী কয়েক মাসে আরও যে ইউরেনিয়াম চালান আসার কথা, সেগুলির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক রুট এবং আকাশসীমার অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।