...
...
Next Story

US 100% Tariff on India: মার্কিন বিল পাশে ভারতের বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা, ১০০% শুল্কের আশঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার উপর আরও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই বিল আনা হয়েছে। মার্কিন সেনেটে বিলটি পাস হয়েছে ৮৬-১২ ভোটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমেরিকা সফরের সময় এই বিল অনুমোদন পাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

Published on: Jul 29, 2026, 09:26:36 IST
Advertisement

US 100% Tariff on India: আমেরিকার সেনেটে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে ভারত। কারণ, এই বিল কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় ভারতের উপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকার সেনেটে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে ভারত।
আমেরিকার সেনেটে রাশিয়াকে লক্ষ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে ভারত।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার উপর আরও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই বিল আনা হয়েছে। মার্কিন সেনেটে বিলটি পাস হয়েছে ৮৬-১২ ভোটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমেরিকা সফরের সময় এই বিল অনুমোদন পাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বিলটির খসড়া তৈরি করেছিলেন প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এতে রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান।

বর্তমানে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে চিনের পরেই ভারতের স্থান। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই বিলের আওতায় ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে ভারতের রপ্তানি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল আগে জানিয়েছিলেন, কোনও দেশ যদি রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম কেনে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এই বিধান মূলত কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের কথা মাথায় রেখেই রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমানে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই অবস্থায় ভারতের উপর নতুন শুল্ক আরোপ হলে সেই আলোচনাও প্রভাবিত হতে পারে। দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগেও রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের কারণে আমেরিকা ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার অভিযোগে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন। এর ফলে ভারতের মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হলে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয় এবং ভারত আবারও রাশিয়ার তেল আমদানি বাড়ায়। ২০২৬ সালের জুনে ভারতের রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি ৩৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড স্তরে পৌঁছায়। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে এই আমদানির মূল্য ছিল ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো, যা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি থেকে আয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারত-সহ ১৭টি দেশের কিছু পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। বন্ডেড বা জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভারতের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব থাকলেও, বিদেশ বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আনার পর তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে নতুন রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিল কার্যকর হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, রপ্তানি এবং আমেরিকার সঙ্গে চলা বাণিজ্য আলোচনা—সবকিছুর উপরই তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে বিলটি আইনে পরিণত হওয়া এবং তার বাস্তব প্রয়োগের আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর থাকবে নয়াদিল্লির।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe