ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মইন খানের বাড়িতে কূটনীতিকদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয় গতরাতে। সেই নৈশভোজে নাকি উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এরই সঙ্গে আবার ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাও সেই নৈশভোজে অংশ নেন। এরই সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত জাপান, নেপাল, ইতালি ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত, ব্রিটিশ হাইকমিশনাররা ছিলেন সেখানে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলরও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আপাত দৃষ্টিতে সৌজন্যমূলক এক নৈশভোজ ছিল এটি। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সেই নৈশভোজের সময় আলোচনা হয় কূটনৈতিক স্তরে।

বাংলাদেশের সার্বিক বিষয়, অর্থনীতি, বৈদেশিক কূটনৈতিক বিষয়, মধ্যপ্রাচ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় সেই নৈশভোজের সময়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন উপস্থিত কূটনীতিকরা। উল্লেখ্য, এর আগে শেখ হাসিনার সময়কালে ঢাকা নিয়ে ভারত এবং আমেরিকা ছিল ভিন্ন মেরুতে। আমেরিকা ছিল হাসিনা বিরোধী। আর দিল্লিতে মোদী সরকার হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হত। এরই মাঝে আবার হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে 'গণঅভ্যুত্থানে' আমেরিকার 'ভূমিকা' নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে তারেক রহমানের বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক কেমন হবে, তার দিকে নজর থাকবে ভারতেরও।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে এবার বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এই মর্মে গতকালই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। ঢাকায় প্রণয় বর্মার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। উল্লেখ্য, প্রণয় বর্মা ২০২২ সালের অগস্ট মাসে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রণয় বর্মা বাংলাদেশে নিযুক্ত থাকাকালীন সেখানে হাসিনার পতন ঘটেছে। ইউনুস সরকারের সঙ্গে ভারতের তিক্ততা বেড়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা হয়েছে। ভারত বিরোধী মিছিলে উত্তাল হয়েছে ঢাকা। হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরানোর জন্য বারংবার দিল্লিকে বার্তা পাঠিয়েছে ঢাকা। আবার নির্বাচনের পরে তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে ফের ট্র্যাকে ফিরেছে ভারতের সম্পর্ক।