কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের যাবতীয় হুঙ্কার, হুঁশিয়ারিকে কার্যত বড়সড় ধাক্কা দিয়ে শ্রীনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সাফ বলে দিলেন, ‘কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ শ্রীনগরে এদিন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর ছিল। সেখানে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন।

কাশ্মীরের বুকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলের নজর ছিলই। তাঁর সফর ও তাঁর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে ওমর আবদুল্লা বলেছেন, ‘বহু বছর পর কোনও মার্কিন রাষ্ট্রদূত কাশ্মীরে আসছেন। আমরা কথা বলব, আমি তাঁর কাছ থেকে শুনতে চাই।’ বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের আমলা তথা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন,‘কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি প্রথমবার এই জায়গায় এসেছি। এটি অসাধারণ সুন্দর জায়গা।’ গোর যখন কথা বলছেন, তখন পাশেই দাঁড়িয়ে ওমর আবদুল্লাহ। গোর বলেন, ‘ খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। আনরা আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে চিনের সঙ্গে লাদাখে গালওয়ান যুদ্ধ, ২০২৫ সালে পহেলগাঁওকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারতের অপারেশন সিঁদুর-র পর এই প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও কূটনীতিবিদ কাশ্মীরে পা রাখলেন। শুধু তাই নয়, কাশ্মীর নিয়ে ভারত যে দাবি করে আসছে, কার্যত সেই দাবিই ফের একবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্তার মুখ থেকেও এল যে, ‘কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ প্রসঙ্গত, একটা সময় পহেলগাঁও হানার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে সমস্যা হাজার বছর ধরে চলছে, সম্ভবত তারও বেশি সময় ধরে। ওটা (সন্ত্রাসী হামলা) ছিল একটা ভয়াবহ ঘটনা। ওই সীমান্তে দেড় হাজার বছর ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি একই রকম রয়ে গেছে, তবে আমি নিশ্চিত যে কোনও না কোনওভাবে তারা এর সমাধান খুঁজে বের করবে।’ সেই জায়গা থেকে কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে মার্কিন দূতের বক্তব্যে উল্লেখ করার ঘটনা, নিঃসন্দেহে কূটনৈতিক আঙিনায় তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। বিশেষত অপারেশন সিঁদুরের পর যেখান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনা প্রধান মুনিরের ঘনিষ্ঠতা কূটনৈতিক মহলের নজর কেড়েছিল, সেই জায়গা থেকে কাশ্মীর নিয়ে গোরের বৃহস্পতিবারের বক্তব্য পাকিস্তানের প্রতিও কোনও বার্তা কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।