US Army Latest Update: আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে এবার বড় ধরনের রদবদলের ঘোষণা করলেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। আমেরিকার সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরে জেনারেল ও অ্যাডমিরালের জন্য নির্ধারিত পদ ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। বুধবার ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোয় মেরিন কর্পস ঘাঁটিতে ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ বক্তৃতায় এই পরিকল্পনার কথা জানান হেগসেথ। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এই পরিবর্তন কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘোষণার অর্থ এই নয় যে আমেরিকার ২০ শতাংশ জেনারেল বা অ্যাডমিরালকে সরাসরি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হবে। মূলত জেনারেল ও অ্যাডমিরালের জন্য নির্ধারিত পদ বা দায়িত্বের সংখ্যা কমানো হবে। কিছু পদ পুরোপুরি তুলে দেওয়া হতে পারে, আবার কিছু উচ্চপদকে নিচের স্তরের পদে নামিয়ে আনা হতে পারে। ফলে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সব উচ্চপদস্থ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হবে এমনটা নয়।
হেগসেথ জানিয়েছেন, এর আগে তিনি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়িয়ে মোট ২০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হল। প্রায় ৮০০টি জেনারেল ও ফ্ল্যাগ অফিসার পদের কাঠামোকে এই পরিবর্তনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। হেগসেথের যুক্তি, সামরিক বাহিনীর উপর থেকে অতিরিক্ত প্রশাসনিক স্তর সরিয়ে নেতৃত্বকে আরও কার্যকর এবং দায়বদ্ধ করা দরকার।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক জন সেনেটর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শীর্ষ স্তরে একসঙ্গে এত পদ কমালে সামরিক নেতৃত্বের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক কেলি এই উদ্যোগকে সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অন্য দিকে রিপাবলিকান সেনেটর মাইক রাউন্ডস বলেছেন, শুধুমাত্র উপরিস্তরে অতিরিক্ত পদ কমানোর উদ্দেশ্য হলে তার যুক্তি বোঝা যায়, তবে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ আগে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হেগসেথের এই উদ্যোগ শুধু জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমেরিকার সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নীতি এবং নেতৃত্বের কাঠামোতেও একাধিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত কয়েকটি কর্মসূচি বন্ধ বা কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের নীতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}হেগসেথের এই উদ্যোগ শুধু জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমেরিকার সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নীতি এবং নেতৃত্বের কাঠামোতেও একাধিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত কয়েকটি কর্মসূচি বন্ধ বা কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের নীতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}গত এক বছরে আমেরিকার সামরিক নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও দেখা গিয়েছে। কয়েক জন শীর্ষ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল সি কিউ ব্রাউন এবং নৌবাহিনীর প্রধান লিসা ফ্রাঞ্চেত্তিও ছিলেন। এই সব সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হেগসেথের নতুন সিদ্ধান্ত আমেরিকার সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে কোন কোন পদ তুলে দেওয়া হবে এবং কোন পদ নিচের স্তরে নামানো হবে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।