ব্রিটেনের মাটিতে রাখা একের পর এক মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হল। ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা সব কটি বি-১ বোমারু বিমানকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে আমেরিকায়। কেন এমন সিদ্ধান্ত? এত দিন সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর মেলেনি। এ বার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ছিল। সেই কারণেই ঝুঁকি না নিয়ে বিমানগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই হুমকির সঙ্গে ইরানের যোগ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তাঁর কাছে খবর ছিল যে সেখানে কোনও ধরনের হুমকি থাকতে পারে। তাই এমন অবস্থায় আমেরিকা কেন নিজেদের বোমারু বিমান সেখানেই রেখে দেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিমান সরিয়ে নিতে খুব বেশি খরচ হয় না। ফলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থাকলে বিমান সরিয়ে নেওয়াই স্বাভাবিক সতর্কতা।
শুধু তাই নয়, হুমকির পিছনে কারা রয়েছে, তাঁদের সম্পর্কেও নিজেদের কাছে তথ্য থাকার দাবি করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকেরা জানতে চান, সেই হুমকির সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ আছে কি না। জবাবে ট্রাম্প জানান, হুমকিদাতাদের সঙ্গে ইরানের যোগ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ব্রিটেনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে ঘিরে তেহরান ঘনিষ্ঠ কোনও পরিকল্পনার আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।
ঘটনার সূত্র অবশ্য কয়েক সপ্তাহ আগের। সেপ্টেম্বর মাসে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে একটি সন্দেহজনক ঘটনা ঘিরে তদন্ত শুরু হয়। কয়েকটি ভ্যানকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পরে ছয় জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক জন ব্রিটিশ এবং ইরানি দ্বৈত নাগরিকও ছিলেন। তাঁকে সন্ত্রাসবাদী হামলার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বা জামিনে রাখা হয়েছে। পুলিশের তল্লাশিতে ভ্যান থেকে বিস্ফোরক না মিললেও পেট্রল উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই ঘাঁটি আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে এখান থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ঘাঁটিতে হামলা হলে তা শুধু ব্রিটেনের মাটিতে একটি নিরাপত্তা সমস্যা নয়, আমেরিকার সামরিক অভিযানের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
{{/usCountry}}এই ঘটনার পর থেকেই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই ঘাঁটি আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে এখান থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ঘাঁটিতে হামলা হলে তা শুধু ব্রিটেনের মাটিতে একটি নিরাপত্তা সমস্যা নয়, আমেরিকার সামরিক অভিযানের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
{{/usCountry}}তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের সুর কিছুটা আলাদা। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানকে নিয়ে সতর্ক রয়েছে আমেরিকা এবং সম্ভাব্য হুমকি এড়াতেই সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু এটিকে কোনও নিশ্চিত হামলার প্রমাণ হিসাবে দেখা হচ্ছে না। বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়োও বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত নিজেদের শক্তি এবং সম্পদ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে থাকে। বোমারু বিমান সরানোর সঙ্গে সন্দেহভাজন ইরানি ষড়যন্ত্রের সরাসরি যোগ রয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য তিনি দেননি।
অন্য দিকে, ব্রিটেনও জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী। ব্রিটিশ সরকারের তরফে আপাতত এমন কোনও নিশ্চিত নতুন হুমকির কথা জানানো হয়নি। ইরানও ঘাঁটিতে হামলার অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
তবু একসঙ্গে সব বি-১ বোমারু বিমান ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এগুলি শুধু সাধারণ যুদ্ধবিমান নয়। দূরপাল্লার হামলার ক্ষেত্রে বি-১ আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। ফলে এমন বিমানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার অর্থ, সম্ভাব্য ঝুঁকিকে ওয়াশিংটন একেবারে হালকা ভাবে দেখছে না।
এখন বড় প্রশ্ন, এই হুমকি কতটা বাস্তব ছিল এবং এর পিছনে সত্যিই ইরানের কোনও হাত রয়েছে কি না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার উত্তর মিলবে না। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট, ইরানকে ঘিরে আমেরিকার নিরাপত্তা উদ্বেগ ফের এক ধাপ বেড়েছে।