মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো সাংবিধানিক নীতি বদলানোর যে উদ্যোগ ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পরপরই শুরু করেছিলেন, আদালতের রায়ে তা কার্যত থমকে গেল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল থাকবে।
দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি ছিল, বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতিতে ১৮৬৮ সালের আইনের পুনর্বিবেচনা জরুরি। ট্রাম্পের অভিযোগ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বহু অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পথ সহজ করে নিচ্ছেন। তাই এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা তাঁর প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল।
মার্কিন আইনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে বলা হয় 'জুস সোলি', যার অর্থ 'মাটির অধিকার'। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রতিটি শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। শিশুটির বাবা-মা অন্য দেশের নাগরিক বা অভিবাসী হলেও এই অধিকার প্রযোজ্য হয়।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ প্রকাশের পরই একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং অভিবাসনপন্থী সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের যুক্তি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধান-প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। তাই শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সেই অধিকার বাতিল বা সীমিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টও মূলত সেই যুক্তিকেই সমর্থন করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা বহাল থাকবে এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী নির্দেশের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করা যাবে না। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা লাগল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 'আমেরিকান ফার্স্ট' নীতিকে সামনে রেখে ট্রাম্প যে কঠোর অভিবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সেই প্রচেষ্টার ওপর বড়সড় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিও আপাতত অক্ষুণ্ণ থাকল।
{{/usCountry}}বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 'আমেরিকান ফার্স্ট' নীতিকে সামনে রেখে ট্রাম্প যে কঠোর অভিবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সেই প্রচেষ্টার ওপর বড়সড় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিও আপাতত অক্ষুণ্ণ থাকল।
{{/usCountry}}