...
...
Next Story

নজরে ভারত! আরএসএস-R&AW উপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের, কিন্তু কেন?

অতীতে ভারত একাধিকবার এই সংস্থার সুপারিশ তথা মন্তব্যকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছে।

Published on: Mar 16, 2026, 23:40:13 IST
Advertisement

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিজেপির আদর্শিক উৎস রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং ('র')-র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। ওই মার্কিন কমিশন ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে বলেছে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টির সঙ্গে অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্য নীতিকে যুক্ত করতে।

বিদেশ মন্ত্রক (HT_PRINT)
বিদেশ মন্ত্রক (HT_PRINT)

বিদেশ মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত মার্কিন ইউএসসিআইআরএফ-র রিপোর্ট নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীতে ভারত একাধিকবার এই সংস্থার সুপারিশ তথা মন্তব্যকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছে। ইউএসসিআইআরএফ সারা বিশ্বে ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতার সার্বজনীন অধিকার (এফওআরবি) পর্যবেক্ষণ করে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, বিদেশ সচিব এবং কংগ্রেসের কাছে নীতিগত সুপারিশ করে। বার্ষিক রিপোর্টে মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন যুক্তি দিয়েছে যে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি 'ক্রমাগত অবনতি' হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেছে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়গুলিকে 'টার্গেট' করা হচ্ছে। ইউএসসিআইআরএফ-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, 'বেশ কয়েকটি রাজ্য কঠোরতর কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করে ধর্মান্তর বিরোধী আইন প্রবর্তন বা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের প্রশাসকেরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলি বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না।' মার্কিন সংস্থাটি রিপোর্টে অবশ্য অনুপ্রবেশকারীর পরিবর্তে শরণার্থী শব্দটিও ব্যবহার করা হয়েছে। ‌

এর আগে ২০২৫ সালে ইউএসসিআইআরএফ-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন ওই কমিশনের ২০২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্ট তাদের নজরে এসেছে, কিন্তু আরও একবার সেখানে তাদের পক্ষপাতপূর্ণ ও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক প্যাটার্নই পরিলক্ষিত হচ্ছে। যে সংস্থা এরকম ‘এজেন্ডা-ভিত্তিক’ দাবি করে থাকে, তাদের অথেন্টিসিটি বা বৈধতা কতটা, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউএসসিআইআরএফ যেভাবে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বারবার ভুলভাবে তুলে ধরতে চাইছে এবং ভারতের প্রাণবন্ত ও বহুত্ববাদী সমাজকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে, তাতে বোঝা যায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাদের সত্যিকারের উদ্বেগ নেই। বরং এর পেছনে একটা ইচ্ছাকৃত ডিজাইন আছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘১৪০ কোটি মানুষ এই দেশে থাকেন এবং পৃথিবীতে যতগুলো ধর্মের অস্তিত্ব আছে, তার সবগুলোর প্রতিনিধিত্ব এখানে আছে। কিন্তু ভারতের এই বহুত্ববাদী কাঠামো এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সম্প্রীতিতে ভরা সহাবস্থানকে ইউএসসিআইআরএফ স্বীকৃতি দেবে, এটা আমরা কখনও আশাও করি না।’

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe