পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটটিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রণালয়। এই কনস্যুলেটটি আফগান সীমান্তের নিকটতম মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ছিল। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন হালা পর থেকে এই কনস্যুলেটটি আমেরিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল হাব ছিল। তবে বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কনস্যুলেটটি বন্ধ করার কথা জানানো হয়। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসকে কনস্যুলেটটি বন্ধ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এতে করে প্রতি বছর ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে বলে জানানো হয়েছে। পেশোয়ার কনস্যুলেটে ১৮ জন মার্কিন কূটনীতিক এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারী এবং ৮৯ জন স্থানীয় কর্মচারী কাজ করেন। নোটিশে বলা হয়েছে, এই কনস্যুলেট বন্ধ করতে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করবে ট্রাম্প সরকার।
লাহোর এবং করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুসেটগুলিতে পরিষেবা স্থগিত রেখেছে আমেরিকা। এর আগে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীরা পালটা গুলি চালিয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছিল। এমনিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক মধুর হয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে আমেরিকা-বিরোধী মনোভাব বেড়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পরে গোটা পাকিস্তান জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল আমেরিকার বিরুদ্ধে। ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যাপক সংঘর্ষে পাকিস্তানে প্রায় ২০ জনের মত নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১০ জনের। এদিকে পাক অধিকৃত লাদাখে গিলগিট বালটিস্তানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত হন। লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিকে ঘিরে ধরেছিল ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলে নির্দেশিকা জারি করে মার্কিন দূতাবাস। এরই সঙ্গে আমেরিকার দূতাবাসে পাকিস্তানিদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করা হয় গত ১ মার্চ থেকেই। পাকিস্তান সরকার মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। তবে কনস্যুলেটের পরিষেবা চালু না করার সিদ্ধান্তই নিয়েছে আমেরিকা।