...
...
Next Story

US Army Crisis:যুদ্ধে ব্যস্ত আমেরিকা, তবু সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদ খালি! হেগসেথের সিদ্ধান্তে বাড়ছে উদ্বেগ

গত এপ্রিল মাসে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রধান নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। শুধু জর্জ নন, তাঁর বদলি হতে পারেন—এমন আরও অন্তত তিনজন শীর্ষ সেনা আধিকারিককেও হেগসেথ সরিয়ে দিয়েছেন।

Published on: Aug 26, 2026, 13:53:17 IST
Advertisement

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমেরিকার সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদই খালি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একের পর এক শীর্ষ সেনা আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার পর এখন স্থায়ী সেনাপ্রধান ছাড়াই কাজ করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে।

গত এপ্রিল মাসে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রধান নেই। (Bloomberg)
গত এপ্রিল মাসে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রধান নেই। (Bloomberg)

জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রধান বা চিফ অব স্টাফ নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। শুধু জর্জ নন, তাঁর বদলি হতে পারেন—এমন আরও অন্তত তিনজন শীর্ষ সেনা আধিকারিককেও হেগসেথ সরিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ছয়জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে হয় বরখাস্ত করা হয়েছে, নয়তো পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

আর এই ঘটনা ঘটছে এমন একটি সময়ে, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে ব্যস্ত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দিতে আমেরিকার বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তাও দিচ্ছে মার্কিন সেনা।

শুধু যুদ্ধ নয়, ড্রোনের ব্যবহারও মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম খরচের ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরান ও রাশিয়াও আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। ফলে দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত বছর জেনারেল ডেভিড এম হোডনেকে ওই কমান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র আট মাসের মধ্যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে কেন সরানো হয়েছিল, তার কোনও কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এমন সময়ে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে গত জানুয়ারি মাসে হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় মার্কিন সেনাবাহিনীতে সক্রিয় চার তারকা জেনারেলের সংখ্যা ছিল ১০। এখন সেই সংখ্যা কমে হয়েছে মাত্র পাঁচ। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন বলে দাবি করা হয়েছে। কিছু পদ পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অন্য সামরিক শাখার আধিকারিকদের আনা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিংগাসকেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগেই সরিয়ে দিয়েছিলেন হেগসেথ। পরে জেনারেল ক্রিস্টোফার লা-নেভেকে সেই পদে আনা হয়। র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে লা-নেভে একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্ট সতর্ক করে বলেছেন, প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতির মূল্য শেষ পর্যন্ত সেনাদের জীবন দিয়ে দিতে হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সাংসদ প্যাট রায়ানেরও অভিযোগ, যুদ্ধের সময়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে মার্কিন সেনার নিরাপত্তা দুর্বল হতে পারে এবং জয় পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ড্রোন-নির্ভর নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরে এতগুলি পরিবর্তন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, হেগসেথ কবে স্থায়ী সেনাপ্রধান নিয়োগ করেন এবং নেতৃত্বের এই শূন্যতা কত দ্রুত পূরণ হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe