ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমেরিকার সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদই খালি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একের পর এক শীর্ষ সেনা আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার পর এখন স্থায়ী সেনাপ্রধান ছাড়াই কাজ করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে।

জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রধান বা চিফ অব স্টাফ নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। শুধু জর্জ নন, তাঁর বদলি হতে পারেন—এমন আরও অন্তত তিনজন শীর্ষ সেনা আধিকারিককেও হেগসেথ সরিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ছয়জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে হয় বরখাস্ত করা হয়েছে, নয়তো পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
আর এই ঘটনা ঘটছে এমন একটি সময়ে, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে ব্যস্ত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দিতে আমেরিকার বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তাও দিচ্ছে মার্কিন সেনা।
শুধু যুদ্ধ নয়, ড্রোনের ব্যবহারও মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম খরচের ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরান ও রাশিয়াও আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। ফলে দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের প্রধানের পদ। এই সংস্থাই মূলত মার্কিন স্থলসেনাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিশ্চিত করে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাজ করা সেনারাও রয়েছেন।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের প্রধানের পদ। এই সংস্থাই মূলত মার্কিন স্থলসেনাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিশ্চিত করে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাজ করা সেনারাও রয়েছেন।
{{/usCountry}}গত বছর জেনারেল ডেভিড এম হোডনেকে ওই কমান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র আট মাসের মধ্যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে কেন সরানো হয়েছিল, তার কোনও কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এমন সময়ে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিকে গত জানুয়ারি মাসে হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় মার্কিন সেনাবাহিনীতে সক্রিয় চার তারকা জেনারেলের সংখ্যা ছিল ১০। এখন সেই সংখ্যা কমে হয়েছে মাত্র পাঁচ। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন বলে দাবি করা হয়েছে। কিছু পদ পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অন্য সামরিক শাখার আধিকারিকদের আনা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিংগাসকেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগেই সরিয়ে দিয়েছিলেন হেগসেথ। পরে জেনারেল ক্রিস্টোফার লা-নেভেকে সেই পদে আনা হয়। র্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে লা-নেভে একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্ট সতর্ক করে বলেছেন, প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতির মূল্য শেষ পর্যন্ত সেনাদের জীবন দিয়ে দিতে হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সাংসদ প্যাট রায়ানেরও অভিযোগ, যুদ্ধের সময়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে মার্কিন সেনার নিরাপত্তা দুর্বল হতে পারে এবং জয় পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ড্রোন-নির্ভর নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরে এতগুলি পরিবর্তন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, হেগসেথ কবে স্থায়ী সেনাপ্রধান নিয়োগ করেন এবং নেতৃত্বের এই শূন্যতা কত দ্রুত পূরণ হয়।