আমেরিকার মিশিগান প্রদেশে প্রশিক্ষণ চলাকালীন একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়াকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির একটি গ্রামীণ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ঠিক আগে যুদ্ধবিমানের পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাইলট সচেতন ছিলেন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তবে তাঁর পরিচয় বা আঘাতের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন সেনা সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড যৌথ ঘাঁটির ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের অন্তর্ভুক্ত। একাধিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে মিশিগানে একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলছিল। মহড়ার ঘাঁটি ছিল আলপেনার একটি জাতীয় গার্ড প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রশিক্ষণের সময়ই একটি এফ-১৬ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রেডিও যোগাযোগে অন্য এক পাইলটকে বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে জানাতে শোনা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি সম্ভবত একটি পাখির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থাকতে পারে। এর পরেই তিনি জরুরি বিপদের বার্তা দেন। যদিও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনও পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে এটিকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার কারণে। প্রথমে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের মানুষকে বাড়ির ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে মিশিগান রাজ্য পুলিশ প্রায় এক মাইল এলাকার মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, দুর্ঘটনার পরে কিছু উদ্ধারকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা হাইড্রাজিন নামের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। এই রাসায়নিকটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়। হাইড্রাজিন শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং চোখ বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
{{/usCountry}}কর্তৃপক্ষের ধারণা, দুর্ঘটনার পরে কিছু উদ্ধারকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা হাইড্রাজিন নামের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। এই রাসায়নিকটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়। হাইড্রাজিন শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং চোখ বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
{{/usCountry}}রাসায়নিকের ঝুঁকির কারণে স্থানীয় মুনসন মেডিক্যাল সেন্টারে দূষণমুক্ত করার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা মানুষদের শ্বাসকষ্ট, কাশি বা শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বস্তি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় ওই এলাকার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে উদ্ধারকারী দল কিছু সময় ধরে দুর্ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া এবং মাটিতে আগুন দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমানটিকে দুর্ঘটনার আগে অস্বাভাবিকভাবে নিচু উচ্চতায় উড়তে দেখা গিয়েছিল। এরপরই প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায় এবং দুর্ঘটনার পর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়।
এফ-১৬ বহু বছর ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান। ১৯৭৯ সাল থেকে বিমানটি মার্কিন বাহিনীতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে এই যুদ্ধবিমানকে আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত করা হয়েছে এবং বিশ্বের বহু দেশও এফ-১৬ ব্যবহার করে।
মিশিগানের এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাইলট সময়মতো বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে পারায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিমানটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারাল, পাখির সঙ্গে সত্যিই সংঘর্ষ হয়েছিল কি না এবং রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তের অপেক্ষায়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার পূর্ণ কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে।