US-Iran Conflict: মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস ও গোরগান-সহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। সে দেশের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকা ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের ‘একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার জবাবেই কুয়েত, বাহরিন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তারা জানিয়েছে, এই হামলায় ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। অন্যদিকে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী আল-আজরাক বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। আইআরজিসির দাবি, ওই হামলায় ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা এবং সেখানে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।
তাদের কথায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ ও নাজারাবাদের কাছাকাছি একটি বিনোদন কেন্দ্র, একটি শিল্প কমপ্লেক্স এবং পিশভা কাউন্টিতে অবস্থিত স্থানীয় বিপ্লবী গার্ডের একটি ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ‘শত্রুপক্ষের আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে তাদের সামরিক অভিযানও চলতে থাকবে। এর আগে আইআরজিসি দাবি করেছিল, কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটি এবং বাহরিনের শেখ ইসা ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতেও বাহরিনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ স্থাপনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে হামলার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগের দাবি অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।
তিন মাস ধরে চলা উত্তেজনার পারদ এখন চরম সীমায়। একদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর আঘাতের হুমকি, অন্যদিকে তেহরানের পালটা হুঁশিয়ারি, সব মিলিয়ে গোটা অঞ্চলটি এখন যুদ্ধের দোরগোড়ায়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে, কারণ দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।
{{/usCountry}}তিন মাস ধরে চলা উত্তেজনার পারদ এখন চরম সীমায়। একদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর আঘাতের হুমকি, অন্যদিকে তেহরানের পালটা হুঁশিয়ারি, সব মিলিয়ে গোটা অঞ্চলটি এখন যুদ্ধের দোরগোড়ায়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে, কারণ দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।
{{/usCountry}}