US Man Arrested at Border: ভারত-নেপাল সীমান্তে অবৈধভাবে নেপালে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এক মার্কিন নাগরিক। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলার সোনৌলি সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তিকে ঘিরে একের পর এক রহস্য সামনে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর দেওয়া একাধিক তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর ভারত সফরের উদ্দেশ্য এবং সীমান্তে যাওয়ার কারণ নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।

ধৃত মার্কিন নাগরিকের নাম জর্ডান ব্রাউন (৩৬)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। গত ১১ জুলাই রাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-র ২২ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং সোনৌলি থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। অভিযোগ, বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই তিনি সীমান্তের একটি অননুমোদিত পথ দিয়ে নেপালে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
তদন্তে ব্রাউন দাবি করেন, গোয়ায় ছয় সপ্তাহ থাকার সময় এক নেপালি নাগরিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। সেই ব্যক্তির সঙ্গেই দেখা করতে তিনি সোনৌলিতে এসেছিলেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নেপালি ব্যক্তির পুরো নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর—কোনও তথ্যই তিনি দিতে পারেননি। এতে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
শুধু তাই নয়, নিজের পাসপোর্ট কোথায় রয়েছে, সেই প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি ব্রাউন। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরুর এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট রেখে এসেছেন। কিন্তু সেই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা বা যোগাযোগের কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্যও তিনি দিতে পারেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অসঙ্গতিগুলির কারণেই ব্রাউনের ভারত সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কীভাবে গোয়া থেকে সোনৌলি পৌঁছলেন, সীমান্ত পর্যন্ত আসতে কেউ তাঁকে সাহায্য করেছিল কি না, কিংবা তাঁর ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে কোনও সূত্র মিলতে পারে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অসঙ্গতিগুলির কারণেই ব্রাউনের ভারত সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কীভাবে গোয়া থেকে সোনৌলি পৌঁছলেন, সীমান্ত পর্যন্ত আসতে কেউ তাঁকে সাহায্য করেছিল কি না, কিংবা তাঁর ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে কোনও সূত্র মিলতে পারে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}জর্ডান ব্রাউন তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছেন, প্রায় আট সপ্তাহ আগে তিনি বালি থেকে ভারতে এসেছিলেন। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ গোয়ায় কাটিয়ে সোনৌলিতে আসেন। তাঁর দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
এসএসবি সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তের ৫১৬ নম্বর পিলারের কাছে তাঁকে আটকানো হয়। অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে সোনৌলি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ইমিগ্রেশন আইন এবং বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ব্রাউনের কাছ থেকে একটি চিনা পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া তিনি নিজেকে মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিশেষ বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য বলেও দাবি করেছেন। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এখন তাঁর সম্পূর্ণ ভ্রমণ ইতিহাস, পাসপোর্টের অবস্থান এবং যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি করেছেন, তাঁদের পরিচয় খতিয়ে দেখছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগ ছাড়া অন্য কোনও অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জর্ডান ব্রাউনকে ঘিরে রহস্য থেকেই যাচ্ছে।