...
...
Next Story

Pacific Command: 'কোয়াড-র কফিনে...,' US প্যাসিফিক কমান্ডে ‘ইন্দো’ সরতেই ক্ষোভ শশীর, কাকে 'অগ্রাধিকার' ট্রাম্পের দেশের?

Pacific Command: বৃহত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে এই কম্যান্ড। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে 'ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড' করেছিলেন।

Published on: Jun 18, 2026 04:06 PM IST
Advertisement

Pacific Command: মার্কিন ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’ থেকে সরানো হল ‘ইন্দো’ শব্দটি। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারের তরফে এমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ‘ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’-এর আগে যে নাম ছিল ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’ সেটিকেই পুনর্বহাল করা হচ্ছে। অর্থাৎ সরানো হচ্ছে 'ইন্দো' শব্দটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত মঞ্চ ‘কোয়াড’ বা ‘চতুর্দেশীয় অক্ষ’ গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, কমান্ডের নাম থেকে 'ইন্দো শব্দটি বাদ পড়ায় জাতীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডে ‘ইন্দো’ সরতেই ক্ষোভ শশী থারুরের (সৌজন্যে টুইটার)
মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডে ‘ইন্দো’ সরতেই ক্ষোভ শশী থারুরের (সৌজন্যে টুইটার)

বৃহত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে এই কম্যান্ড। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে 'ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড' করেছিলেন। সেই সময় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলী গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে এর মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নয়া সিদ্ধান্ত সেই প্রতীকী পদক্ষেপেই বদল আনল। ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার জানিয়েছে, এই কমান্ডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই পুরনো নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে তারা এও স্পষ্ট করে দিয়েছে, নাম পরিবর্তন হলেও এই কমান্ডের কাজের পরিধি, লক্ষ্য বা ভৌগোলিক সীমানায় কোনও পরিবর্তন আসবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত এই কমান্ডের আগের মতোই দায়িত্বে থাকবে।

১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের আমলে ইউএস প্যাসিফিক কম্যান্ড গড়ে ওঠে। এটি গঠিত হয়। এটি মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম ঐক্যবদ্ধ সামরিক বাহিনী। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস কমান্ডটির নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ রাখেন। সে সময় ওয়াশিংটন যুক্তি দিয়েছিল, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাড়তি কৌশলগত গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে প্রতিফলিত করতেই এই পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই নাম পরিবর্তন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রতীকী প্রকাশ। পাশাপাশি, কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো বড় সংঘাতের সময় যৌথ সামরিক অভিযানের সমন্বয় এবং মানবিক ও দুর্যোগ-মোকাবিলায়ও এটি সক্রিয় ছিল। একই সঙ্গে এটি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করেছিল। যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে দুই দেশের সহযোগিতায় কমান্ডটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।

সর্বশেষ এই পরিবর্তনের আগে পর্যন্ত এই কমান্ড বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল জুড়ে সামরিক অভিযান, পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান মার্কিন সামরিক কমান্ড হিসেবে কাজ করে আসছিল। বর্তমানে হাওয়াইভিত্তিক এই কমান্ডটি প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলজুড়ে সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের সমন্বয় করে। এর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, যৌথ মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম।

ভারত কেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে?

২০১৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ রাখার বিষয়টিকে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপের চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে দেখা হয়েছিল। এটি ওয়াশিংটনের এই স্বীকৃতিরই ইঙ্গিত ছিল যে, ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রমশ গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ভারতের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ‘ইউএস-ইন্দোপ্যাককম’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়। যৌথ মহড়া, সামুদ্রিক সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামোর আওতায় ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক কার্যকলাপের সঙ্গে এই কমান্ডটি নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। এর দায়িত্বের এলাকা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি-সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরজুড়ে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে চলমান আঞ্চলিক আলোচনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe