...
...
Next Story

US Navy Birthday Post Row: মার্কিন নৌবাহিনীর জন্মদিনে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের ছবি পোস্ট ট্রাম্পের দলের নেতাদের!

মার্কিন নৌবাহিনীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ভারতীয় এবং রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছবি পোস্ট করে বসলেন শাসক রিপাবলিকান দলের একাধিক নেতা। বাদ গেলেন না এক প্রাক্তন মার্কিন নৌসেনা আধিকারিকও। নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজই চিনতে পারলেন না তাঁরা!

Published on: Oct 14, 2026, 10:53:39 IST
Advertisement

মার্কিন নৌবাহিনীর ২৫১তম প্রতিষ্ঠা দিবস। দেশরক্ষায় নিয়োজিত নৌসেনাদের সম্মান জানাতে সমাজমাধ্যমে একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করছেন আমেরিকার রাজনীতিকেরা। কিন্তু দেশপ্রেমের সেই প্রদর্শনই মুহূর্তে পরিণত হল হাসির খোরাকে! মার্কিন নৌবাহিনীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ভারতীয় এবং রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছবি পোস্ট করে বসলেন শাসক রিপাবলিকান দলের একাধিক নেতা। বাদ গেলেন না এক প্রাক্তন মার্কিন নৌসেনা আধিকারিকও। নিজেদের নৌবাহিনীর জাহাজই চিনতে পারলেন না তাঁরা! ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ।

জর্জিয়ার গভর্নরের পোস্টে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ

মার্কিন নৌবাহিনীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ভারতীয় এবং রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছবি পোস্ট করে বসলেন শাসক রিপাবলিকান দলের একাধিক নেতা
মার্কিন নৌবাহিনীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ভারতীয় এবং রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছবি পোস্ট করে বসলেন শাসক রিপাবলিকান দলের একাধিক নেতা

ঘটনার সূত্রপাত জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান পি কেন্পের একটি পোস্ট ঘিরে। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সমাজমাধ্যম এক্সে নৌসেনাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করেন তিনি। আমেরিকার নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। কিন্তু শুভেচ্ছাবার্তার সঙ্গে যে ছবিটি জুড়ে দেন, তাতেই বিপত্তি।

ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, সমুদ্রে সার দিয়ে এগিয়ে চলেছে তিনটি যুদ্ধজাহাজ। ছবির উপর লেখা, ‘হ্যাপি বার্থডে ইউএস নেভি’। রয়েছে জর্জিয়া প্রশাসনের সিলমোহরও। প্রথম দর্শনে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনও জাহাজের ছবি বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ডেভ ব্রাউন ছবিটি পরীক্ষা করে জানান, জাহাজগুলি আদৌ আমেরিকার নয়। সেগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ।

ছবিতে থাকা জাহাজ তিনটি হল আইএনএস গোদাবরী, আইএনএস ব্রহ্মপুত্র এবং আইএনএস বিয়াস। ছবিটি ২০০৮ সালে তোলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সে সময়ে ভারত ও আমেরিকার নৌবাহিনী যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। অর্থাৎ, দুই দেশের নৌবাহিনীর সহযোগিতার স্মারক হিসাবেই ছবিটি তোলা হয়েছিল। অথচ সেই ছবিই আমেরিকার নৌবাহিনীর জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ব্যবহার করে ফেললেন জর্জিয়ার গভর্নর!

শুধু কেন্প নন, তালিকায় আরও অনেকে

আমেরিকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিক জেফ্রি জে ডিনিসের পোস্টেও দেখা যায় রুশ নৌবাহিনীর কিরভ শ্রেণির একটি যুদ্ধজাহাজ। উত্তর ক্যারোলিনার কংগ্রেস সদস্য টিম মুর আবার কেন্পের ব্যবহৃত সেই ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের ছবিই পোস্ট করেন।

তালিকায় রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়াও। শহরটিতে আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ নৌঘাঁটি রয়েছে। তা সত্ত্বেও শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি ব্যবহার করেন সোভিয়েত আমলের ক্রুজার মিখাইল কুতুজভের ছবি। জাহাজটি বর্তমানে রাশিয়ার নভোরোসিস্কে জাদুঘর হিসাবে রাখা হয়েছে। রিপাবলিকানপন্থী ফ্রিডম ককাস ফাউন্ডেশনের সমাজমাধ্যমের পাতায় আবার ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস ত্রিখণ্ডের ছবি দেখা যায়।

সমাজমাধ্যমে বিদ্রুপের ঝড়

একের পর এক ভুল সামনে আসতেই এক্সে ব্যঙ্গের বন্যা বয়ে যায়। কেউ কৌতুক করে লেখেন, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজও কি এ বার এইচ-১বি ভিসা নিয়ে দেশে ঢুকছে? আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের বিমান ও যুদ্ধজাহাজ চিনতেই কি সমস্যায় পড়ছেন মার্কিন রাজনীতিকেরা?

উল্লেখ্য, ১৭৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী। দেশের স্বাধীনতা ঘোষণারও এক বছর আগে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তার যাত্রা শুরু। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌবাহিনী হিসাবে পরিচিত সেই বাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবসে এমন ভুল যে অস্বস্তিকর, তা বলাই বাহুল্য।

দেশের সামরিক শক্তি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করতে গিয়ে অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজকে নিজেদের বলে তুলে ধরার ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার আগে ছবির সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন কি ভুলে গিয়েছেন রাজনীতিকেরা? দেশপ্রেমের বার্তা দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদেরই হাসির পাত্র করে তুললেন তাঁরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks