...
...
Next Story

US on India-Iran Relation: মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পরই আমেরিকার হুঁশিয়ারি! কী বললেন মার্কো রুবিও?

ফক্স নিউজ রেডিয়োর ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও ইরান কোনও বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে কি না। জবাবে মার্কিন বিদেশসচিব বলেন, তাঁর ধারণা অনুযায়ী ভারত ও ইরানের মধ্যে এমন কোনও বাণিজ্য চুক্তি নেই।

Published on: Sep 3, 2026, 10:01:19 IST
Advertisement

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারত-ইরানের মধ্যে নতুন কোনও বাণিজ্যিক সমঝোতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে একইসঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আর্থিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য না করার জন্য বিভিন্ন দেশকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারত-ইরানের মধ্যে নতুন কোনও বাণিজ্যিক সমঝোতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। (PMO)
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারত-ইরানের মধ্যে নতুন কোনও বাণিজ্যিক সমঝোতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। (PMO)

ফক্স নিউজ রেডিয়োর ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও ইরান কোনও বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে কি না। জবাবে মার্কিন বিদেশসচিব বলেন, তাঁর ধারণা অনুযায়ী ভারত ও ইরানের মধ্যে এমন কোনও বাণিজ্য চুক্তি নেই। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিটি দেশই নিজেদের স্বাধীন বিদেশনীতি অনুসরণ করে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এমনকি বিভিন্ন আলোচনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনেরও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে সেখানেই শেষ নয়। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনও দেশ সাহায্য করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ যেন এমন কোনও আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য না করে, যার মাধ্যমে ইরান রাজস্ব আয় করতে পারে এবং সেই অর্থ সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩১ অগস্ট বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। আলোচনায় ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেন, সংঘাতের সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত এবং বেসামরিক নাগরিক, বেসামরিক পরিকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে ভারত বহুপাক্ষিক মঞ্চ, বিশেষত ব্রিকস ও এসসিও-তে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার পক্ষেও মত জানিয়েছে।

অর্থাৎ নয়াদিল্লি যেখানে নিজের স্বাধীন বিদেশনীতি বজায় রেখে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাইছে, সেখানে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে। ফলে ভারত-ইরান সম্পর্কের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে জাতীয় স্বার্থ ও জ্বালানি-নিরাপত্তার হিসাব, অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য চাপ।

সব মিলিয়ে, মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পর ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হলেও মার্কো রুবিওর বক্তব্যে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট—তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারে বিভিন্ন দেশ, কিন্তু ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করলে তার মূল্য চোকাতে হতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe