ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারত-ইরানের মধ্যে নতুন কোনও বাণিজ্যিক সমঝোতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে একইসঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আর্থিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য না করার জন্য বিভিন্ন দেশকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

ফক্স নিউজ রেডিয়োর ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও ইরান কোনও বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে কি না। জবাবে মার্কিন বিদেশসচিব বলেন, তাঁর ধারণা অনুযায়ী ভারত ও ইরানের মধ্যে এমন কোনও বাণিজ্য চুক্তি নেই। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিটি দেশই নিজেদের স্বাধীন বিদেশনীতি অনুসরণ করে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এমনকি বিভিন্ন আলোচনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনেরও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সেখানেই শেষ নয়। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনও দেশ সাহায্য করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ যেন এমন কোনও আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য না করে, যার মাধ্যমে ইরান রাজস্ব আয় করতে পারে এবং সেই অর্থ সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রুবিও আরও জানান, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে আটকানোই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেলে তার জন্য মূল চাপ আসবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও আমেরিকা খোলা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
{{/usCountry}}রুবিও আরও জানান, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে আটকানোই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেলে তার জন্য মূল চাপ আসবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও আমেরিকা খোলা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩১ অগস্ট বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। আলোচনায় ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেন, সংঘাতের সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত এবং বেসামরিক নাগরিক, বেসামরিক পরিকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে ভারত বহুপাক্ষিক মঞ্চ, বিশেষত ব্রিকস ও এসসিও-তে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার পক্ষেও মত জানিয়েছে।
অর্থাৎ নয়াদিল্লি যেখানে নিজের স্বাধীন বিদেশনীতি বজায় রেখে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চাইছে, সেখানে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে। ফলে ভারত-ইরান সম্পর্কের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে জাতীয় স্বার্থ ও জ্বালানি-নিরাপত্তার হিসাব, অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য চাপ।
সব মিলিয়ে, মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পর ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হলেও মার্কো রুবিওর বক্তব্যে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট—তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারে বিভিন্ন দেশ, কিন্তু ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করলে তার মূল্য চোকাতে হতে পারে।