US Pilot killed in Papua Indonesia: ইন্দোনেশিয়ার অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় এক মার্কিন পাইলট নিহত হয়েছেন। হামলার পর তাঁর দেহ উদ্ধার করেছে ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী। একই সঙ্গে হামলাকারীরা ছোট একটি বিমানেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বহু দশকের পুরনো পাপুয়া সংঘাত।

নিহত পাইলটের নাম নিকোলাস এফ গসেলিন। তিনি ইন্দোনেশিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা পিটি এএমএ-র হয়ে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার পাপুয়া হাইল্যান্ডস প্রদেশের ইয়াহুকিমো জেলার বালিংগামা গ্রামের ইপদেহেইক বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গুলি করে তাঁকে হত্যা করে এবং পরে বিমানটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর হাবেমা অপারেশন কমান্ডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানবন্দরটি সুরক্ষিত করে। তারপর শুক্রবার গসেলিনের দেহ উদ্ধার করেন। অভিযানে ১০ জন নিরাপত্তারক্ষী অংশ নেন বলে জানিয়েছেন অভিযানের ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিয়ান্তো।
হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ওয়েস্ট পাপুয়া লিবারেশন আর্মি’, যা ‘ফ্রি পাপুয়া মুভমেন্ট’-এর সশস্ত্র শাখা। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দুক ও কুড়াল হাতে জঙ্গিরা পাপুয়ার স্বাধীনতার প্রতীক ‘মর্নিং স্টার’ পতাকা উড়িয়ে হামলার দায় স্বীকার করছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি, তারা আগে থেকেই ওই এলাকায় অসামরিক বিমান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তাদের অভিযোগ, সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের আড়ালে ইন্দোনেশিয়ার সেনা ও রসদ পরিবহণ করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী। সেনার দাবি, বিমানে সাতজন স্থানীয় পাপুয়া নাগরিক ছিলেন, যার মধ্যে তিনজন মহিলা। তাঁরা সবাই অক্ষত রয়েছেন এবং বিমানে কোনও সেনাকর্মী ছিলেন না।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিচ্ছিন্নতাবাদী মুখপাত্র সেবি সামবোম দাবি করেছেন, পাপুয়ার দীর্ঘ ৬৪ বছরের সংঘাতের মূল কারণগুলির সমাধান করতে না পারায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস এবং রাষ্ট্রসংঘের সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনার দাবি জানান। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও যে কোনও বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, যদি তাদের সন্দেহ হয় যে সেটি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিচ্ছিন্নতাবাদী মুখপাত্র সেবি সামবোম দাবি করেছেন, পাপুয়ার দীর্ঘ ৬৪ বছরের সংঘাতের মূল কারণগুলির সমাধান করতে না পারায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস এবং রাষ্ট্রসংঘের সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনার দাবি জানান। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও যে কোনও বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, যদি তাদের সন্দেহ হয় যে সেটি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, পাপুয়ায় বিদেশি পাইলটদের উপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মার্ক মেহরটেন্সকে অপহরণ করেছিল একই গোষ্ঠী। প্রায় দেড় বছর পর তিনি মুক্তি পান। ২০২৪ সালে আরেক নিউজিল্যান্ডের পাইলট গ্লেন ম্যালকম কনিংকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। তারপর থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই দীর্ঘ সংঘাতকে আরও একবার আন্তর্জাতিক নজরে এনে দিল।