আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির বিরুদ্ধে আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আদালটির উপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে নেদারল্যান্ডসের হেগে থাকা আদালটির আর্থিক লেনদেনের বড় অংশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গেও আদালটির যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সূত্রের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর হওয়ার আগে আদালতকে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস সময় দেওয়া হতে পারে। এরপর আইসিসির পক্ষে মার্কিন ডলারে লেনদেন করাও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তবে যোগাযোগ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কিছু লেনদেন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকতে পারে।
আমেরিকা চলতি সপ্তাহেই এই পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক চলাকালীন বা তার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থা আগের নিষেধাজ্ঞার তুলনায় অনেক বড়। এর আগে আমেরিকা আইসিসির কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই তালিকায় আদালতের প্রাক্তন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান, আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকাশানে, কয়েকজন বিচারক এবং কৌঁসুলিরাও ছিলেন।
আমেরিকা ও আইসিসির মধ্যে টানাপোড়েন আরও বাড়ে ২০২৪ সালে। সে বছর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। গাজা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত কথিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ট অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগেও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, আদালত এমন সব দেশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, যারা আইসিসির সদস্য নয়। আমেরিকা ও ইজরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। রুবিও জুলাই মাসে আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রয়োজন হলে আদালটিকে ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগেও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, আদালত এমন সব দেশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, যারা আইসিসির সদস্য নয়। আমেরিকা ও ইজরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। রুবিও জুলাই মাসে আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রয়োজন হলে আদালটিকে ধাপে ধাপে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}তবে রুবিওর পুরনো অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে মার্কিন সেনেটর থাকার সময় তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্তে আইসিসিকে সমর্থন করেছিলেন। রাশিয়াও আইসিসির সদস্য নয়। পরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
আমেরিকার এই নতুন পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক দেশগুলির মধ্যে জাপানও রয়েছে। এসব দেশ আদালটির কাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কীভাবে ঠেকানো হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফলে আইসিসি নিয়ে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলির মধ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং আদালটির আন্তর্জাতিক কাজকর্মে কতটা প্রভাব পড়বে, এখন সেদিকেই নজর।