আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও তাতে সফল হয়নি পাকিস্তান। এদিকে বৈঠক শুরুর আগেই পাকিস্তানি মিডিয়াতে দাবি উঠেছিল প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে যেন নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। এদিকে এই দেশেই আবার সর্বশক্তিমান ব্যক্তি হলেন সেনা প্রধান। সেই সেনা প্রধান ইরানকে মধ্যস্থতার টেবিলে বসাচ্ছেন, আবার তিনিই সৌদি আরবে ইরানের বিরুদ্ধে সেনা পাঠাচ্ছেন। তবে এত যুক্তি নিয়ে থোড়ে মাথা ঘামান ওয়াশিংটনে বসে থাকা অস্থিরচিত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তো নিজেই একেক সময় একেক কথা বলেন। সেই ট্রাম্পের মুখেই শেহবাজ এবং আসিম মুনিরের প্রশংসা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের প্রশংসা করেছেন। এরই সঙ্গে ফের একবার তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে মধ্যস্থতার ভিত্তিহীন দাবি করলেন। ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করে ট্রাম্প দাবি করেন, শরিফ ও মুনিরের 'অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বে' অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইরান ও আমেরিকার বৈঠক। দুই পাকিস্তানি নেতাকে 'অসাধারণ মানুষ' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে দাবি করেন, 'ভারতের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে' ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন জীবন বাঁচানোর জন্য তারা তাঁকে 'প্রতিনিয়ত ধন্যবাদ' জানায়। এরই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, শরিফ-মুনিরের প্রশংসা শুনতে তিনি পছন্দ করেন। সোজা কথায়, শরিফ এবং মুনির যে ট্রাম্পের হয়ে 'জি হুজুরি' করেন, তা তাঁর পছন্দ এবং বিশ্বের সামনে সেই কথাটাই তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই আলোচনা উভয় পক্ষের জন্যেই খুব সংবেদনশীল ছিল। এই আবহে ইরানের তরফ থেকে ৭১ সদস্যের প্রতিনিধি দল গিয়েছিল পাকিস্তান। এদিকে আমেরিকার তরফ থেকে জানা গিয়েছে, প্রথম দিনের আলোচনায় দুই পক্ষ ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কথা বলে। উভয় দেশই তাদের খসড়া ও নথি উপস্থাপন করে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছিল, আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়। এই আবহে এবার আমেরিকা ফের ইরানে হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার ইরানও হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে।
রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে দীর্ঘ বৈঠক ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয় ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে। তবে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি তাই কোনও চুক্তিও হয়নি। পাকিস্তানের ঢাল হয়ে দাঁড়ান ভান্স। তিনি বলেন, 'আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সত্যিই চেষ্টা করেছে।'
{{/usCountry}}রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে দীর্ঘ বৈঠক ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয় ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে। তবে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি তাই কোনও চুক্তিও হয়নি। পাকিস্তানের ঢাল হয়ে দাঁড়ান ভান্স। তিনি বলেন, 'আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সত্যিই চেষ্টা করেছে।'
{{/usCountry}}অপরদিকে ইরান-মার্কিন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, 'বেশ কয়েকটি দফার ক্ষেত্রে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং আমি উভয় পক্ষকে সহমত করতে চেষ্টা করেছিলাম। উভয় পক্ষের উচিত যুদ্ধবিরতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার বজায় রাখা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এর জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলতে থাকবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফের আলোচনা হবে।'