ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাশুল দিতে হল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে! আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই। শুধু তাই নয়, তাঁর ডেপুটি জেডি ভ্যান্স যে মন্তব্য করেছিলেন, ইরান যুদ্ধই নির্বাচনে হারার অন্যতম প্রধান কারণ, সেই বক্তব্যকেও কার্যত সমর্থন করলেন ট্রাম্প। যদিও যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন তিনি। বরং আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হলে ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষেই সওয়াল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে নির্বাচনে হারের পরেও নিজের যুদ্ধনীতিতে অনড় ট্রাম্প।
ঘটনার সূত্রপাত ৩ নভেম্বর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে কার্যত ধরাশায়ী করে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives) এবং সেনেট—দুটিরই নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে বিরোধীদের হাতে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজ্যেও জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্সির বাকি সময়টা যে যথেষ্ট কঠিন হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার হোয়াইট হাউসের নির্মীয়মাণ বলরুম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণেই কি রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবি? কারণ, এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধই তাঁদের নির্বাচনে হারার অন্যতম প্রধান কারণ। সেই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত কি না জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, কথাটা অনেকাংশেই সত্যি।” তাঁর যুক্তি, ইরান যুদ্ধের জেরে স্বল্পমেয়াদে আমেরিকায় পেট্রলের দাম বেড়েছে। আর তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের উপর।
তবে যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে ক্ষতি হলেও নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মানতে নারাজ ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যায় না। সেই কারণেই সামরিক অভিযান চালানো প্রয়োজন ছিল। ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা আটকানোর জন্য সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র রাস্তা। তাঁর মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার সামনে অন্য কোনও বিকল্প ছিল না।
{{/usCountry}}তবে যুদ্ধের কারণে নির্বাচনে ক্ষতি হলেও নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মানতে নারাজ ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যায় না। সেই কারণেই সামরিক অভিযান চালানো প্রয়োজন ছিল। ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা আটকানোর জন্য সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র রাস্তা। তাঁর মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার সামনে অন্য কোনও বিকল্প ছিল না।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি লেখেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনে হারার কারণ যুদ্ধ। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একটা বড় অংশ এবার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ, রিপাবলিকান সমর্থকরা ভোট দিতে আসেননি, এমন নয়। বরং ভোট দিতে এসেও তাঁদের অনেকে বিরোধী প্রার্থীদের বেছে নিয়েছেন।
ভ্যান্সের মতে, ভোটারদের কাছে চারটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল—ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা। ফলে যুদ্ধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
এদিকে আমেরিকার নির্বাচনী ফলাফলকে নিজেদের জয় হিসেবে তুলে ধরেছে ইরানও। ইরানের নিরাপত্তা আধিকারিক মহসেন রেজাই দাবি করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্র এবং ওয়াশিংটন—দুই জায়গাতেই ট্রাম্পকে পরাজিত করেছে তেহরান। ইরানের সংসদের স্পিকারও বলেছেন, আমেরিকার সাধারণ মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় আগামী দিনে ট্রাম্পের নীতি কার্যকর করা কঠিন হবে। ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও নজরদারি বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে ইরান যুদ্ধ শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির ময়দানেই নয়, এবার আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্পের জন্য বড়সড় বোঝা হয়ে দাঁড়াল।