হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একেক সময় একেক কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন গোটা দেশকে। তবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানকে যে তারা একা প্রতিহত করতে পারছে না, তা কার্যত ট্রাম্পের কথায় স্পষ্ট। এই আবহে গতকাল চিনের কাছে পর্যন্ত সাহায্য চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু চিন নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপেরও নাম নেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'আমেরিকার ১ শতাংশেরও কম তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। তাই আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে অন্য অনেক দেশের অর্থনীতি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। তাদের বেশিরভাগ তেল হরমুজ দিয়ে যায়। চিনের ৯০ শতাংশ তেল যায় হরমুজ দিয়ে। এছাড়া জাপানের বেশিরভাগ তেলও এখান দিয়ে যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৫ শতাংশ তেল যায় এই প্রণালী দিয়ে। ইউরোপেরও প্রচুর পরিমাণের তেল এখান দিয়ে যায়। তাই আমি চাই এই দেশগুলো হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে আমাদের সাহায্য করুক।' পরে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, কোন কোন দেশ হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে আমেরিকাকে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে? এর জবাবে ট্রাম্প জানান, পরে তিনি সেই সব দেশের তালিকা দিয়ে দেবেন।
এর আগে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, মার্কিন এক রণতরী নাকি হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা একটি জাহাজকে সেখান থেকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি পোস্টও করেন। পরে অবশ্য তিনি সেই পোস্টটি মুছে দেন। মার্কিন সেনা জানিয়ে দেয়, কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনেনি তারা। পরে হোয়াইট হাউজের তরফ থেকেও জানানো হয়, এখনও পর্যন্ত কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনেনি মার্কিন রণতরী।
হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এতে যেন আরও বেশি 'মাথা খারাপ' হয়ে গিয়েছে আমেরিকার।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এতে যেন আরও বেশি 'মাথা খারাপ' হয়ে গিয়েছে আমেরিকার।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং।